• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২০শে মাঘ ১৪৩২ দুপুর ০২:২৮:৫৪ (02-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
পাকিস্তানে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ভারতের

পাকিস্তানে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘তুচ্ছ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন।পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি দাবি করেন, বালুচিস্তানের হামলাকারীরা ভারতের সমর্থন পেয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগকে ‘মনগড়া’ বলে উল্লেখ করে। খবর এনডিটিভির।এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত বিবৃতিতে ভারত জানায়, পাকিস্তানের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে এ ধরনের অভিযোগ তোলা তাদের পুরনো কৌশল।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইসলামাবাদকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বালুচিস্তানের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে মনোযোগ দেওয়া উচিত, ভিন্নমত দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ নয়।জয়সওয়াল বলেন, প্রতিবার সহিংস ঘটনার পর তুচ্ছ অভিযোগ তোলার বদলে তাদের উচিত নিজেদের অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো সমাধান করা। দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড সবারই জানা।৩১ জানুয়ারি শনিবার হামলাকারীরা সাধারণ মানুষের বেশে হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাংক ও বাজারে ঢুকে গুলি চালায় বলে জানান পাকিস্তানের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী।তালাল চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ঘটনায় হামলাকারীরা বেসামরিক পোশাকে এসে দোকানপাটে কর্মরত সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বেসামরিক লোকজনকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলায় ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, শনিবার ৯২ জন এবং শুক্রবার ৪১ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করা হয়েছে।বুগতি বলেন, আমাদের কাছে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই অনুযায়ী একদিন আগেই পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।কোয়েটা, গওয়াদার, মাস্তুং ও নোশকি জেলায় প্রায় একই সময়ে এসব হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা নিরাপত্তা স্থাপনায় গুলি চালানো, আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যৌথ অভিযান শুরু করে।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, দুটি হামলায় নারী হামলাকারী জড়িত ছিল। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এখন ক্রমশ বেসামরিক মানুষ, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে।সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীরা কোনো শহর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখল করতে পারেনি।বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) নামে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানায়, ‘হেরফ’ বা ‘ব্ল্যাক স্টর্ম’ নামে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের ৮৪ জন নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করেছে এবং ১৮ জনকে আটক করেছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।