এক হাতে তালি বাজে না: অনিন্দিতা বসু
বিনোদন ডেস্ক: ওপার বাংলার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী অনিন্দিতা বসু। তার জন্ম কলকাতায় হলেও বেড়ে উঠেছেন মুম্বাইয়ে। একপর্যায়ে মায়া নগরী থেকে কলকাতায় ফিরে শোবিজ অঙ্গনে কাজ শুরু করেন। জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিকের পাশাপাশি বড়পর্দায় কাজ করেছেন। তবে এই যাত্রা তার জন্য সহজ ছিল না, প্রতি পদে পদে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে।ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিকবার হোঁচট খেয়েছেন অনিন্দিতা। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন। ২০১৩ সালে গৌরব চ্যাটার্জির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। উত্তমকুমারের বাড়ির বউ হয়ে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে কোনো অসুবিধা হয়েছিল কি না? এ প্রশ্নের জবাবে অনিন্দিতা বসু বলেন, “আমি আসলে ওই নামের ভারটা নিয়ে আলাদা করে ভেবে দেখিনি। বিয়ে আর পরিবার, দুটো জিনিসকে একদম একভাবে ভাবিনি। আমার জন্য এটা ছিল শুধু আমার সঙ্গীর সঙ্গে থাকা। ব্যস, এর বাইরে কিছু আর ভাবিনি। এখনো ও আমার বন্ধু।”দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে অনেক ঝড় আপনাকে সামলাতে হয়েছে। সেই সময় কীভাবে কাটিয়েছেন? অনিন্দিতা বসু বলেন, “আমার কাছে এটা ট্যাবু নয়। সব ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে আমাকে থেরাপি খুবই সাহায্য করেছে। কিছু পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছি, কিছু সমস্যা সামলেছি, আবার নিজেকে শক্ত করে আমার মতো করে এগিয়েছি। আমি নিজেও এখন আর্ট থেরাপি শিখছি, যাতে আমিও অন্যদের সাহায্য করতে পারি।”আমার বিয়ে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো দু’জন মানুষের বিয়ে হলো, তাদের বিয়ে টিকল না। ঠিক করার চেষ্টা করেও যদি সমস্যা থেকেই যায় তা হলে তো একসঙ্গে থেকে লাভ নেই।ব্যক্তিগত জীবনে অনিন্দিতা এখন সুখী। তার ভাষায়—“জীবনের কঠিন পরিস্থিতি নানা সময়ে নানা শিক্ষা দিয়ে যায়, পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতাও দিয়ে যায়। আর আমি এখন যেমন, সেই অনিন্দিতাকেও আমিই গড়েছি। তাই কোনো আক্ষেপ নেই। ব্যক্তিগত জীবনে এখন খুব খুশি।”সম্পর্কের ভাঙা-গড়া থেকেও নানা শিক্ষা নিয়েছেন অনিন্দিতা। এ অভিনেত্রী মনে করেন, “একটা সম্পর্কে যখন বিচ্ছেদ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই অপর পক্ষকে দোষটা দিয়ে দিই। কিন্তু এক হাতে তো আর তালি বাজে না। আগে তো ম্যাচিউরিটিটা আসে না। আমরা সকলেই আবেগপ্রবণ। এখন এই বয়সে জানি কোন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়।”প্রাক্তন সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দিতা বলেন, “কোথাও যখন দেখা হয়, তখন হাই, হ্যালো বলি। কেমন আছিস তো বলিই! এখন তারা তাদের মতো করে জীবনযাপন করছে। তারা বিবাহিত, সুখী দাম্পত্যজীবন কাটাচ্ছেন।”অতীতে দাম্পত্যজীবনে সুখী হননি অনিন্দিতা। তারপরও বিয়েতে বিশ্বাসী। ফের বিয়ে করার কথা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি প্রচণ্ডভাবে কমিটমেন্টে বিশ্বাসী। আমি বিয়ে করব। কারণ আমার বিয়ে প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো দু’জন মানুষের বিয়ে হলো, তাদের বিয়ে টিকল না। ঠিক করার চেষ্টা করেও যদি সমস্যা থেকেই যায় তা হলে তো একসঙ্গে থেকে লাভ নেই। বিয়ে একটা বড় দায়িত্ব। আমি নিজের জন্য বিয়ে করতে চাই। আশা করছি, ভবিষ্যতে করব।”বিয়ের পরিকল্পনা যেমন করছেন, তেমনই ক্যারিয়ারেও মনোযোগী। মুম্বাইয়ে প্রচুর অডিশন দিচ্ছেন। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “কলকাতায় আসার আগে অনেকগুলো অডিশন দিয়েছি। গত জুন মাসে একটি হিন্দি সিনেমার শুটিং শেষ করেছি। এটি বড় সিনেমা। সময় হলেই ওটা নিয়ে কথা বলতে পারব। বড় প্রযোজনা সংস্থার সিনেমা; তাই খুব উচ্ছ্বসিত। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি খবরটা দিতে পারব।”২০১৩ সালে গৌরব চ্যাটার্জির সঙ্গে ঘর বাঁধলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৫ সালে এ সংসারের ইতি টানেন তারা। একই বছর অভিমন্যু মুখার্জির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অনিন্দিতা। কিন্তু দুই বছর পর এ সংসারও ভেঙে যায়। দ্বিতীয় সংসার ভাঙার পর অভিনেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। বিয়ের পরিকল্পনা করলেও তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। পরে অভিনেত্রী দর্শনা বণিকের সঙ্গে ঘর বাঁধেন সৌরভ। তবু অনিন্দিতা আর বিয়ে করেননি।২০১১ সালে মুম্বাই থেকে কলকাতায় ফিরে ঋতুপর্ণ ঘোষের সান্নিধ্যে আসেন অনিন্দিতা। ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে প্রথম কাজ করেন। এরপর ‘বউ কথা করও’, ‘অদ্বিতীয়া’, ‘কানামাচি’, ‘রাধা’ প্রভৃতি ধারাবাহিক উপহার দেন। পাশাপাশি ভারতীয় বাংলা সিনেমায়ও পা রাখেন অনিন্দিতা। ২০১১ সাল ‘জানি দেখা হবে’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। হিন্দি সিনেমায়ও অভিনয় করছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘শেষ থেকে শুরু’, ‘দ্য স্টোরিটেলার’ প্রভৃতি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন অনিন্দিতা। ২০১৮ সালে এ মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ হলো—‘পাতাল লোক’, ‘মাফিয়া’, ‘ব্রেক আপ স্টোরি’, ‘মার্ডার ইন দ্য হিলস’, ‘লজ্জা’ প্রভৃতি।