ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের দাবিতে চালকদের অবরোধ
গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি: ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে এবং পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশা চালকরা।২৫ জানুয়ারি রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার পুরান বাজার এলাকায় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে শতাধিক অটোরিকশা চালক এ কর্মসূচি পালন করে।এসময় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে উভয় লেন বন্ধ করে দেয়। এতে সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে পড়ে শত শত যানবাহন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে কর্মজীবী মানুষ ও যাত্রীরা।চালকরা জানান, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় নিয়মিত পুলিশ তাদের গাড়ি আটক করছে, মামলা দিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অটোরিকশা অকেজো করে দিচ্ছে। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই অবস্থায় মহাসড়কে নির্বিঘ্নে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে তারা সড়ক অবরোধে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।অটোরিকশা চালক আলী হোসেন বলেন, সরকার যদি মহাসড়কে অটো চালাতে না দেয়, তাহলে অবৈধ সব গাড়িই বন্ধ করা হোক। আমরা টাকা দিয়ে অটো কিনেছি, এই দিয়েই সংসার চালাই। আমাদের রুটি-রুজি বন্ধ করলে সরকার কি আমাদের খাওয়ার দায়িত্ব নেবে?আরেক চালক রাশেদুল বলেন, প্রাইভেটকার কেনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। কষ্ট করে অটো কিনে পরিবার চালাই। তবুও পুলিশ প্রতিদিন ধরে নিয়ে যায়, মামলা দেয়। আমরা শুধু বাধাহীনভাবে গাড়ি চালাতে চাই।খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, ‘পুরান বাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের টহল গাড়ি দেখে এক অটোরিকশা চালক দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে তার গাড়িটি উল্টে যায়। এতে তিনি সামান্য আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। সরকার অনুমতি দিলে তবেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির আহমেদ জানান, ‘অটোরিকশা মালিক ও চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করায় সাময়িকভাবে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’