• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১লা ভাদ্র ১৪৩৩ রাত ০৯:০৬:১১ (16-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শেষ মুহূর্তে আলোচনায় তিন নাম

১৬ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪৩:৩০

চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শেষ মুহূর্তে আলোচনায় তিন নাম
“মো. আমানউল্লাহ আমান (বামে), মমিনুল ইসলাম জিসান (মাঝে) এবং শেখ তানভীর বারী হামিম (ডানে)।”

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম-বিশেষ করে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ও পরীক্ষিত ভূমিকা বিবেচনা করে নতুন ছাত্র নেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এখন শুধু বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গ্রিন সিগন্যালের’ অপেক্ষা।

আসন্ন এই কমিটিতে শেষ সময়ে এসে শীর্ষ পদগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রাজপথের ত্যাগী তিন ছাত্রনেতা— মো. আমানউল্লাহ আমান, মমিনুল ইসলাম জিসান এবং শেখ তানভীর বারী হামিম।

মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও বিগত দিনের ত্যাগের বিচারে মো. আমানউল্লাহ আমানের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে তার সাহসী ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা তাকে শীর্ষ পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মমিনুল ইসলাম জিসান। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ছাত্ররাজনীতি শুরু করে তিনি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে সক্রিয় হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন এবং কারাবরণ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি পুলিশি নির্যাতন ও আটকের শিকার হয়েছিলেন। তাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

কেন্দ্রীয় কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন শেখ তানভীর বারী হামিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের এই আহ্বায়ক ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে নির্বাচন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত জোরালো ও দৃশ্যমান। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে প্রথম দিন থেকেই তিনি রাজপথে সোচ্চার ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই স্পষ্টভাষী নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও বেশ জনপ্রিয়।

আমান ও জিসান ছাড়াও আসন্ন কমিটির সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম (২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ)। এছাড়া, খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম ও এজাজুল কবির রুয়েলের (২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ) নামও শোনা যাচ্ছে।

এই পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ), সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ আদনান।

অন্যদিকে, শেখ তানভীর বারী হামিম ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও মাসুম বিল্লাহর (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ) নাম।

এছাড়া, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, শামীম আখতার শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) নামও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় নতুন কমিটি গঠনে জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, শিক্ষার্থীবান্ধব ইমেজ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই আন্দোলনে যারা রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, সেই পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারাই যেন ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের হাল ধরেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগিরই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথকভাবে বিদায়ের বার্তা দেন তারা। নিজেদের পোস্টে দুজনই ওইদিনকে ‘দায়িত্ব পালনের শেষদিন’ বলে উল্লেখ করেন। এর আগে, রাজধানীর গুলশানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার।   

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে গঠন করা হয়েছিল ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ