• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বিকাল ০৫:২২:৪১ (12-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু

১২ জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:৪৩:৩৭

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

১২ জুন শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন—অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক- টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের আওতায় সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাতে। এ খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে আয়কর, মুনাফা ও মূলধনি মুনাফার ওপর কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভরতা

প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদান ছাড়া মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অনুদানসহ এ ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বা জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

১০০ টাকায় কোন খাতে কত ব্যয়

আগামী অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের ব্যয় কাঠামোয় সবচেয়ে বড় অংশ যাবে সুদ পরিশোধে। মোট ১০০ টাকার মধ্যে ২০ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে শুধু সুদ পরিশোধে, যা এককভাবে সর্বোচ্চ।

এছাড়া ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় হবে ১৭ টাকা, সাহায্য মঞ্জুরি খাতে ১৫ টাকা ৭০ পয়সা এবং বেতন-ভাতা বাবদ ১৪ টাকা ৪০ পয়সা।

পণ্য ও সেবা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ টাকা। অপ্রত্যাশিত ব্যয় ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে ৬ টাকা ৪০ পয়সা। পেনশন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা এবং শেয়ার ও ইক্যুইটিতে ব্যয় হবে ৫ টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া সম্পদ সংগ্রহে ৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং বিবিধ খাতে ২ টাকা ৬০ পয়সা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যয় কাঠামোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুদ পরিশোধ এবং ভর্তুকি-প্রণোদনা খাতেই সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে, যা আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ





ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট: জামায়াত
ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট: জামায়াত
১২ জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:০৭:১৮



বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু
বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু
১২ জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:৪৩:৩৭



Follow Us