অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে সুইডেনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই সহযোগিতা কামনা করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবির বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুইডেনের অব্যাহত সহায়তা চান। একই সাথে সংকটটিকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে সুইডেনকে বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
এ সময় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জোরদারে সুইডেনের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
আলোচনায় দুই দেশের উন্নয়ন সহায়তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো উঠে আসে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ওষুধ, প্রকৌশল ও টেলিযোগাযোগ খাতে সুইডেনের বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
দুই নেতা স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভবিষ্যতের বাণিজ্য সুবিধা নিয়েও মতামত বিনিময় করেন।
গত মাসে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যা অন্তর্ভুক্তকরণ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ও সুইডেন। এতে সহযোগিতার জন্য সুইডেনের সরকারকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিবাসন ইস্যুতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়িয়ে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেন।
নিকোলাস উইকস দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সুইডেনের প্রস্তুতির কথাও জানান।
তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন।
উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available