• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৯ই আশ্বিন ১৪৩৩ সকাল ০৯:৪৭:৫৯ (24-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:৫৯:০১

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা ১১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। এই সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

প্রথমত, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা পান।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

পঞ্চমত, মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ দেশটি থেকে পালিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর শিবিরগুলোতে হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি প্রজন্ম। রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং তরুণদের অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সংকট সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

মানবিকতার তাগিদে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিবিরগুলোতে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হতে পারে।

তবে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য আদর্শ স্থান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা মানবপাচার, মাদকপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে। একটি দেশে অমীমাংসিত থাকা এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজন বাড়লেও মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমছে। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই অর্থ কেবল ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।

‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে না’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। একইভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুধু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের দায়ভার বহন করবে—এটিও প্রত্যাশিত নয়।

রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রম ও নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে এখনো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু সহমর্মিতা দেখানোর পরিবর্তে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। আমরা চাই, তারা নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে মিয়ানমারে নিজ ঘরে ফিরে যাক।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মানবিকতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, গাম্বিয়ার উপরাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ বি. এস. জ্যালো এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।

সূত্র: বাসস

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ









টিভিতে আজকের খেলা (২৪ সেপ্টেম্বর)
টিভিতে আজকের খেলা (২৪ সেপ্টেম্বর)
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:৪৯:০৪