• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ রাত ১২:৩১:১৬ (26-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, আশাবাদী প্রতিমন্ত্রী অমিত

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪০:৩১

১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, আশাবাদী প্রতিমন্ত্রী অমিত

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, এই কষ্টের কারণে আমরা সমব্যথী। সে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, ইনশাআল্লাহ আমরা এই মাসের আর কিছুদিন পরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করবো বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন

কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের যে দুটো এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) আছে, তার মধ্যে একটি যে গত ২১ জুলাই নষ্ট হয়ে গেল, সেটি ১৫ আগস্ট ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে পারিনি। কারণ আমাদের যে কার্গোগুলো আমদানি করতে হয়, সেগুলো রিসিডিউল করতে হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারলেও বাকি ১২ শতাংশ আমরা এখনো করতে পারিনি। আশা করছি, ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুত এটা করে ফেলব।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সে ক্ষেত্রে মনে করছি, যেটা জাতীয় সংসদে আমি বলেছি যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির একটা উল্লেখযোগ্য উন্নতি আমরা লক্ষ্য করব।

বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে এবং রামপালের একটি ইউনিট এখানে পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। কারণ, তাদের যে কয়লা আসার কথা ছিল, সেটা বঙ্গোপসাগরে আছে; কিন্তু লাইটারেজ করে এটা মোংলাতে আনতে হয়। বঙ্গোপসাগর এই মুহূর্তে কিছুটা অশান্ত, সে কারণে এটা লাইটারেজ করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সারা দেশে নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো প্রবারণা পূর্ণিমা

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি আবহাওয়া কিছুদিনের মধ্যে ভালো হবে। সেক্ষেত্রে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় যদি আসে এবং আমরা যদি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যদি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হই, তাহলে ন্যাচারালি তার একটা সুবিধা বিদ্যুৎ বিভাগ অটোমেটিকলি পাবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও একটা উন্নতি দেখব এবং আমাদের যারা শিল্পপতি, শিল্পখাত যারা এই মুহূর্তে কিছুটা হলেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, এমনকি গৃহস্থালি গ্রাহকরাও যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তাদের ভোগান্তিও ইনশা আল্লাহ কমবে বলে আমরা আশাবাদী।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টির কারণে তাদেরও একটা কম্প্রোমাইজ রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে করে তারা পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা, সে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমরা পাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিনের বেলা তারা এখন পর্যন্ত ৯০০ মেগাওয়াট দেয়, সন্ধ্যার পর থেকে ১১০০ মেগাওয়াট দেয়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে অন অ্যান অ্যাভারেজ ১৫০০ থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমরা তাদের কাছে পেতাম। আসলে তারা এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়েছে এবং সে সংক্রান্ত ছবি ও ডকুমেন্ট আমাদেরকে তারা সরবরাহ করেছে। আমাদের কাছে তাদের এই বক্তব্যগুলো যৌক্তিকই মনে হয়েছে। কিন্তু আমরা সারাক্ষণই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

আরও পড়ুন

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩ কর্মকর্তাকে বদলি

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশ আমরা সরবরাহ ব্যবস্থা রিকভার করতে সক্ষম হয়েছি, মাত্র ১২ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ১২ শতাংশ ঘাটতি আমরা মোকাবিলা করে ফেলব।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে আপনার ৬০০ ধরেন দুটো এফএসআরইউ নিয়ে অন অ্যান অ্যাভারেজ ১০০০ থেকে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পার ডে আমরা সাপ্লাই করতে পারি। এখন এটা ধরেন ৭০০, ৭৫০, ৭৭০ পর্যন্ত আমরা সাপ্লাই করতে পারছি। তো ন্যাচারালি যখন দুটো এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় আমরা চালাতে পারবো ইনশা আল্লাহ, তখন আমরা ১০০০ থেকে ১১০০ পর্যন্ত আমরা এলএনজি সাপ্লাই করতে পারবো এই দুটো এফএসআরইউর মাধ্যমে। তার একটা ইতিবাচক প্রভাব বিদ্যুৎখাতেও পড়বে, তার একটা ইতিবাচক প্রভাব শিল্পখাতেও ইনশাআল্লাহ পড়বে।

বেশি দামে এলএনজি কেনার প্রশ্নে তিনি বলেন, বাধ্য হচ্ছি। উপায় নেই। কারণ, আমাদের দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি চুক্তি যাদের সঙ্গে ছিল, আপনারা জানেন তারা সবাই ফোর্স মেজার ডিক্লেয়ার করেছে। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে দাম বরাবরই বেশি হয়। কিন্তু মানুষের কষ্ট হচ্ছে, শিল্পকারখানা ভুগছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে উচ্চমূল্য দিয়ে হলেও সরকার এলএনজি সংগ্রহ করছে, যাতে এই সংকট ও সমস্যা প্রলম্বিত না হয়।

আরও পড়ুন

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন ৪টি পাঠ্যবই অনুমোদন

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারকে এই ঝুঁকি নিয়ে এটা করতে হচ্ছে। কারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে, শিল্পকারখানা ভুগছে। সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে না কেন? এত কষ্ট হলেও পারতপক্ষে তো অন্তত আমরা করি না। আমরা এই সংকট মাত্র একবার করেছি, মানে আমি বলেছিলাম যে যতক্ষণ পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত সমন্বয় করবো না। বাধ্য না হলে তো সরকার এটা করতে চায় না।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ


জামায়াত নেতার ছেলে আপত্তিকর অবস্থায় আটক
জামায়াত নেতার ছেলে আপত্তিকর অবস্থায় আটক
২৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১০:০১:৩৫


এবার গোলাপি আভায় অভিনেত্রী জয়া
এবার গোলাপি আভায় অভিনেত্রী জয়া
২৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:০২:২০



পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩ কর্মকর্তাকে বদলি
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩ কর্মকর্তাকে বদলি
২৫ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪৫:৪৬