অনলাইন ডেস্ক: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ৫ম দিনে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভার ও আশুলিয়ায় অন্তত দেড় শতাধিক এবং সার্বিকভাবে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে এবং গাজীপুরে পুলিশের ৩টি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আশুলিয়া ও গাজীপুরে আহত হয়েছেন একাধিক পুলিশ-বিজিবি সদস্য এবং কয়েকজন সংবাদকর্মী। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়া ও গাজীপুরের প্রায় দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
আজ সোমবার সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুরে হাজার হাজার শ্রমিক রাজপথে নেমে আসেন। সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে শ্রমিকেরা অনন্ত গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তারা বহিরাগত নাকি শ্রমিক তা যাচাই করা হচ্ছে।
একই সময়ে একই দাবিতে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল থেকে সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্র এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। পরে দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ‘সময় টিভি’র রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং ‘এসএ টিভি’র এক ক্যামেরাপারসন পায়ে আঘাত পান।
শিল্পাঞ্চলের এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, "পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।" শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও একই দাবি করে বলা হয়, বহিরাগতরা কারখানা বন্ধ করে সাধারণ শ্রমিকদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে পুরো শিল্পাঞ্চল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এটিভি/আরএম
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available