অনলাইন ডেস্ক: পেটের মেদকে এতদিন মূলত অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করা হলেও নতুন গবেষণা বলছে, এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ভিসেরাল ফ্যাট ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, চিন্তাশক্তি দুর্বল হওয়া এবং ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অ্যাপোলো হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুধীর কুমারের মতে, ভিসেরাল ফ্যাট শুধু শরীরে অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে না। এটি বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক ও হরমোনও নিঃসরণ করে। দীর্ঘদিন এসব উপাদান শরীরে সক্রিয় থাকলে তা মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভিসেরাল ফ্যাট?
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীরে সাধারণত দুই ধরনের চর্বি জমে। একটি ত্বকের নিচে জমা হওয়া চর্বি এবং অন্যটি পেটের গভীরে লিভার, অন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর চারপাশে জমে থাকা ভিসেরাল ফ্যাট। দ্বিতীয় ধরনের এই চর্বিই সবচেয়ে ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়। কারণ এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
মস্তিষ্কে কী ধরনের প্রভাব পড়ে?
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিসেরাল ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভিসেরাল ফ্যাটের সঙ্গে মস্তিষ্কের সামগ্রিক আকার ছোট হয়ে যাওয়া এবং স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশের আকার কমে যাওয়ার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কীভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসেরাল ফ্যাট থেকে নিঃসৃত প্রদাহজনিত উপাদান শরীরের অন্যান্য অঙ্গের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এ কারণে মস্তিষ্কের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, যা স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যাদের পেটের মেদ বেশি, অতিরিক্ত ওজন রয়েছে অথবা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যা আছে, তাদের শরীরে ভিসেরাল ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসেরাল ফ্যাট কমানোর উপায়
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ভিসেরাল ফ্যাট কমানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত শরীরচর্চা করা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমানো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য শুধু ধাঁধা সমাধান বা বই পড়াই যথেষ্ট নয়; পেটের অতিরিক্ত মেদ নিয়ন্ত্রণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সুস্থ কোমর শুধু শরীরকেই নয়, স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্ককেও দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available