• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৬ই ভাদ্র ১৪৩৩ দুপুর ০১:২২:৩০ (31-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে চান বিদেশি আইনজীবী

৩১ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১:৫৪:৫৪

সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে চান বিদেশি আইনজীবী

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান এফ রহমানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লড়তে চান যুক্তরাজ্যের আইনজীবী গ্রায়েম এল. হল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন তিনি। এরই মধ্যে তার আবেদন গ্রহণ করেছে বার কাউন্সিল।

৩০ আগস্ট রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে আবেদন করেন গ্রায়েম এল. হল। সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১১(৮) ধারা উল্লেখ করেন তিনি।

আবেদনে গ্রায়েম হল বলেন, বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ দেওয়া স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি সালমান এফ রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে তাকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আবেদনের সঙ্গে নিজের পেশাগত পরিচিতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংযুক্ত করেন তিনি।

লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের কাউন্সেল গ্রায়েম এল. হলের স্বাক্ষর করা আবেদনটি গত ২৪ আগস্ট গ্রহণ করে বার কাউন্সিল।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আবেদন করেন মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয় এবং এরপর বার কাউন্সিলে আবেদন করতে হয়। বার কাউন্সিলের অনুমতি পাওয়া গেলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগে আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে ওই আবেদনে প্রসিকিউশন আপত্তি জানায়।

বর্তমানে সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো আমলে নেয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রথম অভিযোগে ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারীদের দমনে কারফিউ জারির বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের জ্ঞাতসারে ও প্ররোচনায় ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ড ঘটে। তৃতীয় অভিযোগে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ৪ আগস্ট কারফিউ জারি ও মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনার ফলে মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জন নিহত হন।

পঞ্চম অভিযোগে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক পরিকল্পনা করেন। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় মিরপুর-২, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১৩ এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির ও রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্যও মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত হবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ