• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ রাত ০২:১৬:০৪ (10-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

৭ জুন ২০২৬ সকাল ০৭:৫২:২০

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ৭ জুন রোববার ঘোষণা করা হবে। গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ দিন রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।

রাজধানীর আলোচিত এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনার দিন তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন না। তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না চাইলে অপরাধটি প্রতিরোধ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।

এর আগে শুনানির সময় স্বপ্না আদালতে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে রাখেন। একপর্যায়ে এক নারী পুলিশ কনস্টেবল তাকে সতর্ক করলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শুনানি শুরুর কিছুক্ষণ আগে সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় পিপি জানান, যুক্তিতর্ক শুনানিতে তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন নেই।

তখন বিচারক আসামিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি এমন আচরণ করেন, তাহলে এখনই কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আজ আপনাদের কিছু বলার নেই। এখন যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে, আপনাদের পক্ষের আইনজীবীরাও বক্তব্য দেবেন।’

পরে পুনরায় শুনানি শুরু হলে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বপ্না অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রেখে বরং লাশ গুম ও সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। ফলে হত্যাকাণ্ডে তারও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

পিপি আরও বলেন, মামলার আরেক ব্যক্তি ‘ডলার’-এর বিষয়ে আসামির সাম্প্রতিক বক্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা মাত্র। কারণ, ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানার এমন কোনো বক্তব্য ছিল না। তিনি দাবি করেন, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং মামলায় সন্দেহ সৃষ্টি করতেই আসামি নতুন এসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দির বিভিন্ন অংশ তুলে ধরে বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার বিষয়ে কোনো অসঙ্গতি নেই। সবাই একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহ সম্পর্কে একমত ছিলেন।

গত ২৪ মে মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বালতিতে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন।

সূত্র: এনটিভি

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us