অনলাইন ডেস্ক: সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১২ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই ১২ দফা নির্দেশনা সংযুক্ত ছিল।
চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ নির্দেশনা
১. আবেদনপত্রে আবশ্যিকভাবে প্রার্থীর সদ্য তোলা (আবেদন দাখিলের একমাস পূর্বে) রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার পূর্বে চাকরি প্রার্থীর আবেদন ভালোভাবে যাচাই করা।
৩. লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্ট ঘড়ি যুক্ত ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি), ব্যাগ, বই-পুস্তকসহ সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি নিশ্চিত করা।
৪. পরীক্ষা শুরুর পর কোনোভাবেই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র প্রবেশ করতে না দেওয়া।
৫. পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করা।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কেন্দ্র পরিদর্শনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করা এবং কোনো অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময়ে প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে পুনরায় সংশ্লিষ্ট আকৃতির লেখা পরীক্ষা করা।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখা এবং পরে ব্যবহারিক, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর সঙ্গে এই ছবি মিলিয়ে দেখা।
৯. আবশ্যিকভাবে মৌখিক, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর যোগদানের সময় ছবি পরীক্ষা করে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা।
১০. পরীক্ষা শুরুর আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করা।
১১. পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট ও মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা এবং ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে মোবাইল কোর্ট, মামলা দায়ের, নিয়মিত মামলা দায়ের করা।
১২. ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন- বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিষয়টি তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার এবং পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল টিমের মাধ্যমে বিষয়টি অবলোকনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available