আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং বহু লোক আহত হয়েছে। গতকাল শনিবারে পরিচালিত এই হামলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়।
গত দুই মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করার পাশাপাশি ইউক্রেনও দূরবর্তী রাশিয়ান জ্বালানি সুবিধা ও গুদামে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে উভয় পক্ষই একে অপরের পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে সাফল্য না পেয়ে রাশিয়া যুদ্ধের সীমানা অর্থনীতিতে প্রসারিত করেছে। তাদের উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট—মানুষকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করে এমন প্রতিটি স্থাপনা ধ্বংস করা, ইউক্রেনের অর্থনীতিকে অচল করা এবং আমাদের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী জাপোরিজিয়া, দানিপ্রো এবং ক্রিভি রিহের একাধিক ইস্পাত কারখানা ও শিল্প কমপ্লেক্সে সফল আঘাত হেনেছে।
তবে নিরপেক্ষভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে মস্কো-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের হামলায় তাদের তিনজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের অন্যতম ফ্রন্টলাইন দুর্গ শহর ক্রামাতোর্স্ক—যা রাশিয়া দখল করতে চায়—তার সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, রাশিয়ান বাহিনী ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা চালিয়েছে, যেখানে ৯০ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। চারজন আহত হয়েছেন।
কাউন্সিল বলেছে, ‘এগুলো কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়। এগুলো সাধারণ বেসামরিক গাড়ি। মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে যাচ্ছিল।’
কিভের পশ্চিমে ইউক্রেনের ঝিতোমির অঞ্চলের গভর্নর ভিটালি বুনেচকো জানিয়েছেন, জভ্যাহেল শহরে একটি মুদি দোকানে রাশিয়ান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। বুনেচকো জানান, দুটি পেট্রল পাম্পের পাশাপাশি একটি অজ্ঞাত ‘বিদেশি বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান’ও হামলার শিকার হয়েছে।
ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তবর্তী দেশ মোলদোভা সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন সনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় এবং সাতটি সীমান্ত ক্রসিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। নিয়মিত ইউক্রেনে হামলার সময় রাশিয়ান ড্রোন মোলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করায় অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available