• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বিকাল ০৩:০৫:০১ (29-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

সরকার পরিবর্তনে আন্দোলনকারীদের চাকরি দেবে না যোগী সরকার

২৯ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০১:৩৩:০১

সরকার পরিবর্তনে আন্দোলনকারীদের চাকরি দেবে না যোগী সরকার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তরপ্রদেশে সহিংস উপায়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ডাক দেয়া ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সরকার পরিবর্তনের ডাক দেয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে রাজ্য সরকার। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেস।

এ বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের নিয়োগ ও কর্মী বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে জারি করা এ নীতিমালা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, করপোরেশন, কাউন্সিল ও স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য সহিংস উপায়ে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো, সেসব সংগঠনের সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচনা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন

‘ইসলাম পরিপন্থি’ হওয়ায় চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করল আফগানিস্তান

এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ২১ বছর বয়স পূর্ণ করার পর চরিত্র যাচাইয়ের নির্ধারিত তারিখের আগের তিন বছরের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকলে, তাকে এখনও এসব কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যাবে।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কেবল রাজনৈতিক আদর্শের কারণে কোনো প্রার্থীকে সরকারি চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। একইভাবে, কারও বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া কিংবা তদন্ত চলমান থাকলেও শুধু সেই কারণে তাকে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচনা করা যাবে না।

যোগী সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। দলটি নতুন নির্দেশিকাকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করেছে। এসপি মুখপাত্র উদয়বীর বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে এ ধরনের নির্দেশ জারি করা হতো। তবে স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদ করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত।

আরও পড়ুন

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়। প্রতিটি নির্বাচনের পরই সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয় এবং যে কেউ এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।

উদয়বীরের অভিযোগ, বর্তমান সরকার ভীতি প্রদর্শনের মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। এ কারণেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কথা মনে করিয়ে দেওয়া নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিও নির্দেশিকাটিকে অতিরিক্ত কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের বিষয়ে সরকার নিজেই বিচারকের ভূমিকা পালন করতে পারে না, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আদালত রয়েছে।

আরও পড়ুন

ইয়েমেনের পেট্রল পাম্পে সৌদির হামলায় নিহত ১২, আহত ১০

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কি সরকারের? দেশে কি আদালত নেই? তার মতে, জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভে সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া কিংবা তদন্ত চলমান থাকার কারণে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।

আদালতে খালাস পাওয়া ব্যক্তি, আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া মামলা এবং কিশোর বিচার আইনের আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্যতা কার্যকর হবে না।

চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে দেরি হলেও নিয়োগপত্র দেওয়া আটকে রাখতে হবে না। প্রার্থীর স্বঘোষণাপত্র ও নির্ধারিত নথিপত্র সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে অস্থায়ী নিয়োগপত্র দিতে পারবে।

আরও পড়ুন

জাপানের সঙ্গে ৪ সমঝোতা স্মারক, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সই

তবে যাচাইয়ে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য পাওয়া গেলে কিংবা তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হলে তার নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের আবার চরিত্র যাচাই করতে হবে না। তবে প্রয়োজন হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের আগের কর্মস্থল বা দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

সরকারের দাবি, চরিত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ার কারণে যেন নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য সরকার।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, চরিত্র যাচাইয়ের অনুরোধ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে জেলা পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটকে (এলআইইউ) নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর তা পর্যবেক্ষণ করবে।

আরও পড়ুন

স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮, আহত ৮০

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, চরিত্র যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বা এলআইইউকে প্রার্থীর বাড়িতে যেতে হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর সশরীরে উপস্থিত থাকাও বাধ্যতামূলক নয়।

তবে যাচাই প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সুপারিশ পাঠানোর আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে। প্রার্থী অনলাইনে অথবা সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। এরপর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট সুপারিশ পাঠাবেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

জামালপুরে মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড
জামালপুরে মাদকসেবীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড
২৯ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৩:০৩:১০



লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছে আরও ১৭২ বাংলাদেশি
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছে আরও ১৭২ বাংলাদেশি
২৯ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০২:৪১:১৪






অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হলে করণীয়
অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারিত হলে করণীয়
২৯ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০১:৩৬:৩৮