আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের দিল্লিতে সাত দিন বিচারিক হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। যন্তর মন্তরকে আবারও আইনগতভাবে বিক্ষোভস্থল হিসেবে অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—আদালতে এমন লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ার পর ২১ অক্টোবর বুধবার তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদারির বন্ড জমা দেওয়ার শর্তে মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ অক্টোবর শুক্রবার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দুই নেতা শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তারা বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থার কথাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো বিক্ষোভ সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরকে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সিজেপির নেতারা সেখানকার তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং জাতীয় পতাকা ওড়ান। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে আগে দেওয়া শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর নির্বাচনী তালিকায় কারচুপির অভিযোগে প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার সময় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পরে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। ১৪ অক্টোবর থেকে তারা হেফাজতে ছিলেন। পরে তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়।
একই সময়ে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাসহ আরও কয়েকজনকে আটক করা হলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আইনি প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করে দুই নেতাকে আটকে রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল দলটি। তবে বুধবার হাইকোর্ট তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তারা আবেদন প্রত্যাহার করে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন।
শুনানির সময় দিল্লি হাইকোর্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে মন্তব্য করেন, ‘আমরা আমাদের দেশের বাইরে এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছি। ছাত্র আন্দোলন দিয়ে শুরু হয়ে যা পরে অগ্নিসংযোগ এবং ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনায় রূপ নিয়েছিল।’
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available