আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সিরিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রায় ১০ মিনিটের ভাষণে আল-শারা এসব কথা বলেন। খবর আল-জাজিরার।
আল-শারা বলেন, সিরিয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর দেশটি এখন পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তবে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের ‘অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতি’ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা সিরিয়া প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডেরও বিরোধিতা করে দামেস্ক।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দাবি, ইসরায়েল সিরিয়ায় প্রায় ৫০০টি বিমান হামলা, ১ হাজার ২০০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ এবং প্রায় ৩০০ জনকে আটকের ঘটনা ঘটিয়েছে।
‘এসব ঘটনা এমন এক যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আমরা ভেবেছিলাম অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে’, বলেন আল-শারা।
সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর দেশটি এখন ‘সংকট থেকে সম্ভাবনার পথে’ এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আল-শারা।
তিনি বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ হয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ থেমেছে। সিরিয়া পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু করেছে।’
দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় প্রায় ৩৫ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত সিরীয় নাগরিকের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আল-শারা।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশে অভিবাসনবিরোধী মনোভাবও জোরালো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আল-শারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ১৯৭৪ সালের চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি পৃথকীকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
তিনি আবারও অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
আল-শারা বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং জলসম্পদসমৃদ্ধ গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবেই থাকবে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের আগে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দামেস্ক সফর করেন। ২০০৯ সালের পর এটি ছিল কোনো জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রথম দামেস্ক সফর। ওই সময় গুতেরেস গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে আল-শারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার পর নতুন নেতৃত্বের অধীনে সিরিয়া এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক সমর্থন আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
গত বছরের পর এটি ছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আল-শারার দ্বিতীয় ভাষণ।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available