আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোনো নারীর ঘরে রাতে প্রবেশ করে তার কাপড় তুলে দেওয়ার ঘটনাই ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে না বলে ভারতের ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
আদালত বলেছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণের জন্য ধর্ষণ সংঘটনের উদ্দেশ্যের পাশাপাশি অপরাধটি সম্পন্ন করার দিকে সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ কোনো কার্যক্রম থাকতে হবে।
২৬ বছর আগের একটি মামলায় দণ্ডিত এক ব্যক্তির আপিলের শুনানিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। নিম্ন আদালতের দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টার দণ্ড পরিবর্তন করে হাইকোর্ট ঘটনাটিকে নারীর শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব বলেন, ধর্ষণ সংঘটনের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ কোনো সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম না থাকলে সেটিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যায় না। অর্থাৎ, শুধু ধর্ষণের অভিপ্রায় বা সন্দেহজনক আচরণ যথেষ্ট নয়; ধর্ষণ সংঘটনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ থাকতে হবে।
গত ৩১ আগস্ট এ রায় দেওয়া হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তা প্রকাশ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর চকুলিয়া থানায় এফআইআর (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন) দায়েরের পর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, আগের রাতে তিনি এক নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার কাপড় তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পরে ঘাটশিলা সেশনস কোর্ট ২০০৬ সালের ২৫ জুলাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
ওই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় সংশোধন করে ঘটনাটিকে নারীর শ্লীলতাহানি এবং তার ওপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন।
আদালত আরও বলেন, বিচার চলাকালে ওই ব্যক্তি প্রায় আট মাস হেফাজতে ছিলেন। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে ইতোমধ্যে ভোগ করা ওই আট মাসের হেফাজতই তার দণ্ড হিসেবে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে।
সূত্র: ডেকেন হেরাল্ড
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available