আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন করে হামলা চালানোর পেছনে দেশ দুটির সরাসরি দায় রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির অভিযোগ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা পরিচালনায় কুয়েত ও বাহরাইন তাদের ভূখণ্ড ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করেছে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের দায় তাদেরও বহন করতে হবে।
৩ জুন বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। দেশটির দাবি, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং চলমান যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার ঘটনায় কুয়েত ও বাহরাইনের ‘স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ দায়’ রয়েছে। একইসঙ্গে তেহরান আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাবে সব ধরনের উপায় ব্যবহার করা হবে এবং হামলার উৎসকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ২ জুন মঙ্গলবার ভোরে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করে দেয়। কুয়েতের দাবি, দেশের কোনো স্থাপনায় হামলা সফল হয়নি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তা ছিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের শব্দ।
তবে কুয়েতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি দাবি করে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাহরাইনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের খবরে বলা হয়েছে, প্রথমে পারস্য উপসাগরীয় কেশম দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আইআরজিসি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available