আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১ মে শুক্রবার হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অন্তত নয়টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে কিছু হামলা লেবাননের ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর এবং কিছু হামলা ‘ব্লু লাইন’ অতিক্রম করে উত্তর ইসরায়েলে চালানো হয়।


এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, এ ধরনের হামলার কারণেই তারা লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব অভিযানের মধ্যে রয়েছে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং দখলকৃত এলাকায় স্থাপনা ধ্বংস।

এদিকে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ওয়াশিংটনে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
নাবিহ বেরি বলেন, লেবাননে হামলা চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বর্তমান যুদ্ধবিরতিকেও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, ইসরায়েল বরং হামলা বাড়িয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ ও সিডন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)।
নাবাতিহ জেলার হাবুশ শহরে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। এ হামলায় আরও ২১ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সিডনের জরাইরিয়াহ শহরে পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও চারজন।
এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে কি না—তা নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available