আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর ২২ এপ্রিল বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে; বিনিয়োগকারীরা এখন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
পারস্য উপসাগরীয় জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী এখনো অবরুদ্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে যেকোনো সময় পুনরায় হামলা শুরু হতে পারে। যদিও ফেব্রুয়ারি শেষ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শেয়ারবাজার যে ক্ষতির মুখে পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে ওয়াল স্ট্রিট এখন রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এবং ইরান কর্তৃপক্ষ উভয়ই এই যুদ্ধের অবসান চায়, এমন উচ্চাশা রয়েছে সবার মধ্যে। কারণ, এই যুদ্ধের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে, শক্তিশালী কর্পোরেট মুনাফা এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নিয়ে উন্মাদনা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ডজনখানেক প্রথম সারির কোম্পানি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে এবং শতকোটি ডলারের টেক ডিলগুলো বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তুলেছে। ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি শেয়ারের ঊর্ধ্বগতির কারণে নাসদাক কম্পোজিট নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এস অ্যান্ড পি ৫০০ তার রেকর্ড স্তরের খুব কাছাকাছি রয়েছে।
ট্রেড নেশনের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট ডেভিড মরিসন বলেন, ‘ইকুইটি বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাসী যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে অথবা এটি মার্কিন অর্থনীতিতে খুব সামান্য প্রভাব ফেলবে, যদিও জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে চড়া রয়েছে।’
ইউরোপের বাজারে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও লন্ডনের সূচক কিছুটা কমলেও প্যারিসের সূচক এক শতাংশ পড়ে গেছে। এশীয় শেয়ারবাজারগুলোতেও মিশ্র ফল দেখা গেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের চালান এখনও বন্ধ থাকায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। এ প্রসঙ্গে ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো বিনিয়োগকারীদের স্নায়ুচাপ কমাতে খুব একটা সাহায্য করেনি, কারণ জ্বালানি সংকটের বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।’
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে আবারো ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে। অন্যদিকে, মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই আবারও ৯০ ডলারের উপরে লেনদেন হচ্ছে।
সামুদ্রিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বুধবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের গানবোট অন্তত একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি আলোচনার জন্য সময় দিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা সংলাপ পুনরায় শুরুর চেষ্টা করার সময় ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম আইজি’র বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্প বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যেহেতু আলোচনায় বসার স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে না, তাই আবারও শত্রুতা বা সংঘাত শুরু হওয়ার একটি প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available