আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান বহুমুখী সংঘাতের চাপে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী গুরুতর সংকটে পড়েছে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী রাজনীতিবিদরা। সৈন্যসংকট, দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন এবং স্পষ্ট কৌশলের অভাবকে এ অবস্থার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে তার সক্ষমতার সীমার বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার আহত সেনাদেরও যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখছে।’


ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সেনাপ্রধান এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকেও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।’

লাপিদ আরও অভিযোগ করেন, ‘সরকার কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা ছাড়া একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধে পাঠাচ্ছে।’
অন্যদিকে, সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন এক বিবৃতিতে জানান, বিভিন্ন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা প্রয়োজন। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে প্রতিরক্ষা বলয় জোরদার করতে আরও সৈন্য মোতায়েন জরুরি। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়া সীমান্তেও চাহিদা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লাপিদ জানান, সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফায় দায়িত্ব পালন করছেন। তার ভাষায়, ‘এই সেনারা চরমভাবে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।’
এ প্রেক্ষাপটে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘যারা ড্রাফট এড়াবে, তাদের সব ধরনের সরকারি সহায়তা বন্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাদের সেনাবাহিনীতে আনতে হবে।’
উল্লেখ্য, ইসরাইলে সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত হারেদি সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য এ দায়িত্ব থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন।
সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল, রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available