আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বাড়ছে এবং সংঘাতগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিভাজন গভীর হওয়ায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষগুলো ‘অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর সোমবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে তার শেষ ভাষণ দেওয়ার একদিন আগে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এতে বিশ্বের চলমান বড় সামরিক সংঘাত এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ এখনও কতটা কার্যকর—এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন গুতেরেস।
তিনি বলেন, যুদ্ধগুলোতে ‘পরাশক্তি’ ও নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা একটি সংকট তৈরি করেছে।
গুতেরেস বলেন, এর ফলে এমন এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মাঝারি শক্তির দেশগুলো মনে করছে, তারা যা খুশি করতে পারে, কারণ এর জন্য তাদের কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে খাদ্যের প্রাপ্যতা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
তিনি বলেন, কৃষিপণ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে কৃষ্ণসাগরকেন্দ্রিক সমস্যার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধকে যদি উপসাগরের হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে বহু অর্থনীতির ওপর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে।
গুতেরেস আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ও জ্বালানির দাম বেড়ে গেলেও একসময় তা সামাল দেওয়া সম্ভব। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য ব্যয় এবং সারের সংকটের কারণে ‘চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে’ রয়েছে।
পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার গুতেরেস ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার উত্তরসূরি এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে গুতেরেসের মতে, একাধিক সংকটে জর্জরিত জাতিসংঘকে বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাখতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।
বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গুতেরেস বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ এখনো মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বব্যবস্থাকেই প্রতিনিধিত্ব করছে।
গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা।
জাতিসংঘের মহাসচিব পদে কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সদস্যের ভেটো পাওয়া যাবে না। এরপর সাধারণ পরিষদের ভোটে মহাসচিব নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available