আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অর্থ জোগাতে দেশে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পকে বৈধ অর্থনীতির আওতায় এনে বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার কর আদায়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার যুদ্ধ ড্রোন কেনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ঝেলেজনিয়াকের সমর্থনে এ বিষয়ে একটি বিল আনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে বিলটি পার্লামেন্টে প্রথম ধাপে অনুমোদন পেয়েছে। এখন দ্বিতীয় ধাপের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণ আইনত অপরাধ। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে এ-সংক্রান্ত একটি বড় শিল্প গড়ে উঠেছে।
বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে কর আদায়ের উদ্যোগের কারণে। কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় শুরু করলেও আয় ঘোষণা করলে তাঁদের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসছে, যা দেশটির আইনে এখনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
ঝেলেজনিয়াক এ পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আয় ঘোষণা না করলে কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা হতে পারে, আবার কর দিলে পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আইনে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ মানুষ একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১৩১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। প্ল্যাটফর্মটির মূল প্রতিষ্ঠান ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের একজন স্বিতলানা দভোরনিকোভা জানান, এক সকালে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় নগদ অর্থ, কম্পিউটার ও তথ্য সংরক্ষণের যন্ত্র জব্দ করা হয়। মামলা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযানের মুখে কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতা ইউক্রেন ছেড়ে ইউরোপের অন্য দেশে চলে গেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর আইনজীবী লেসিয়া মিখালেঙ্কো, যিনি শতাধিক কনটেন্ট নির্মাতাকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন, বলেন, যুদ্ধের সময়ে এ ধরনের মামলায় সরকারি সম্পদ ব্যয় করা অপ্রয়োজনীয়।
দভোরনিকোভা এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়েবসাইটে একটি আবেদন করেন। নিজেকে ‘সচেতন করদাতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ কর দেওয়ার পরও তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর আবেদন এক সপ্তাহে ২৫ হাজারের বেশি স্বাক্ষর পায়।
এরপর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, পর্নোগ্রাফি বৈধ করার প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে ঝেলেজনিয়াকের সমর্থিত বিলটি দ্বিতীয় ধাপের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available