বিনোদন ডেস্ক: হলিউড তারকা জেনিফার লোপেজের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনায় থেকেছে। চারবার বিয়ে এবং চারবার বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতার পর এবার সম্পর্ক, আত্মসম্মান ও নতুনভাবে জীবন শুরু করার বিষয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত এই গায়িকা ও অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক টক শোতে জেনিফার বলেন, মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলো নিজের সঙ্গে। তার ভাষায়, কোনো সম্পর্কই একজন মানুষের আত্মসম্মান, মানসিক শান্তি কিংবা আত্মবিশ্বাসের চেয়ে বড় হতে পারে না।
তিনি জানান, একসময় তিনি বিশ্বাস করতেন জীবনের পূর্ণতা একজন জীবনসঙ্গীর মাধ্যমেই আসে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গেছে। এখন তিনি মনে করেন, আগে নিজের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। কারণ নিজের ভেতরে শান্তি না থাকলে অন্য কারও সঙ্গে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে জেনিফার বলেন, কোনো সম্পর্ক যদি দুই পক্ষের জন্যই ভালো না হয়, তাহলে সেটি শেষ করার সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি অনেক সময় সাহসী ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। তার মতে, একটি সম্পর্কের সমাপ্তিই অনেক সময় জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
সম্পর্ক ভাঙার পর একাকিত্বকে ভয় না পেয়ে নিজেকে সময় দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। নিজের কঠিন সময়গুলোতে ধ্যান, শরীরচর্চা, কাজ এবং সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন বলেও জানান এই তারকা।
জেনিফারের মতে, সম্পর্কে কে কাকে ছেড়ে গেল সেটি বড় বিষয় নয়। বরং বিচ্ছেদের পর কে নিজেকে আরও শক্ত, পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারল, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, শুধু ভালোবাসা বা রোমান্টিক অনুভূতি একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে না। পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, ধৈর্য এবং খোলামেলা যোগাযোগ ছাড়া কোনো সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। শুধু একা থাকার ভয় থেকে সম্পর্কে থাকা উচিত নয়; বরং এমন সম্পর্কেই থাকা উচিত, যেখানে দুজন মানুষই একে অপরের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন।
চারবারের বৈবাহিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে ভালোবাসা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন জেনিফার লোপেজ। তার বিশ্বাস, সম্পর্ক ভেঙে গেলেও জীবন থেমে থাকে না। বরং সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও শক্ত, আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত করে তোলে।
৫৭ বছর বয়সে এসে জেনিফার লোপেজের বার্তা ভালোবাসুন, তবে নিজের মূল্য ভুলে নয়। সম্পর্ককে সম্মান দিন, তবে নিজের সুখ, মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মানকেও সমান গুরুত্ব দিন। কারণ জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সম্পর্কটি আসলে নিজের সঙ্গেই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available