বিনোদন ডেস্ক: ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পরীমণির সঙ্গে আসা নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় আদালতে আসা এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসব ঘটনা ঘটে। পরীমণির আদালতে আসাকে কেন্দ্র করে এ সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে পৌঁছান পরীমণি। পরে তিনি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে গাড়িতে বসে থাকেন।
এ সময় তাকে ঘিরে রাখেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা। তারা আশপাশ দিয়ে মানুষের চলাচলও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেন। কালো পোশাক পরা প্রায় ১১ জন নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি সাধারণ পোশাকেও কয়েকজনকে পরীমনির চারপাশে দেখা যায়।
পরীমণি আত্মসমর্পণ করবেন—এ খবর পেয়ে অনেক সাংবাদিক আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে এজলাসে নিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও করতে গেলে তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
লিফটে ওঠার সময় ভিডিও করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমণি। পরে রবিউল হোসাইন টান দিয়ে মোবাইল ফোনটি ফিরিয়ে নেন।
এরপর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে যান পরীমণি। শুনানি শুরু হলে আদালতের বেঞ্চে বসে থাকা পরীমনি আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও পরীমণিকে ঘিরে রাখেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়। এ সময় তার মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে সুজন চন্দ্র মনি দাসের ভাই বলেন, 'আমরা আদালতে এসেছিলাম। এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নায়িকা পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা ধাক্কা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।'
এদিকে, নিচে নেমে গাড়িতে ওঠার আগে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান পরীমণি। এ সময় সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে। পরে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়েন পরীমনি। তার নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কায় অনেক সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানান।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এটিভি/আরএম
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available