কুমিল্লা প্রতিনিধি : কনকনে শীতের রাত। কুমিল্লা নগরীর রাস্তাঘাট তখন প্রায় জনশূন্য। কোথাও ফুটপাতের পাশে, কোথাও বাসস্ট্যান্ডের কোণে, আবার কোথাও রেললাইনের ধারে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছেন অসহায় মানুষগুলো। শীতের তীব্রতায় কাঁপছে শরীর, কিন্তু নেই গায়ে দেওয়ার মতো উষ্ণ কাপড়। এমন রাতেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্বার বাংলাদেশ।

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যান। হাতে হাতে কম্বল নিয়ে তারা পৌঁছে যান শীতার্ত, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের কাছে। ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও অলিগলিতে একে একে তুলে দেওয়া হয় শীতবস্ত্র।


কম্বল পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর চোখে মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ। কেউ কেউ আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তারা বলেন, রাতে শীতে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে যায়। এমন সময়ে এই সহায়তা আমাদের নতুন করে বাঁচার শক্তি দেয়।
এদিকে, কনকনে শীত। ভোরের কুয়াশা আর রাতের ঠান্ডায় কাঁপছে জনপদ। এমন শীতের দিনে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে মাদরাসায় অধ্যয়নরত দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনার পাশাপাশি শীতের সঙ্গে লড়াই করাই যেন তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এই বাস্তবতায় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্বার বাংলাদেশ।
সংগঠনের উদ্যোগে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় উষ্ণ কম্বল। একটি কম্বল হাতে পেয়ে তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দ।
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্বার বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
দুর্বার বাংলাদেশ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতা উল্লাহ বলেন, “রাতের শীত যে কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে, তা শুধু যে অভিজ্ঞরা জানে তা নয়, যে মানুষরা দিনভর পরিশ্রম করে শেষ রাতে ঘুমোতে বসে, তারাও অনুভব করে। তাই ‘দুর্বার বাংলাদেশ’ সংগঠনের পক্ষে থেকে আমরা আজ এখানে এসেছি, আমাদের সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে।
দুর্বার বাংলাদেশ সংগঠনের সভাপতি মঈন নাসের খাঁন রাফি বলেন,“শীতের রাতটাই সবচেয়ে কঠিন সময়। বিশেষ করে অসহায় মানুষ আর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা তখন সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। সেই কষ্ট একটু হলেও লাঘব করতেই গভীর রাতে আমরা মাঠে নেমেছি। দুর্বার বাংলাদেশ সবসময় মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের পাশে থাকতে চায়।”
দুর্বার বাংলাদেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান রাকিবুল আলম রিফাত বলেন, “এই শীতের রাতে কেউ যেন কষ্টে না থাকে এই ভাবনাই আমাদের সংগঠনের ভলেন্টিয়ার ভাইরা মাঠে নেমেছে অসহায়দের আত্ননাত দেখে। খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলোর কাঁপা শরীর আমাদের নাড়া দিয়েছে। একটি কম্বল হয়তো সামান্য, কিন্তু তাদের কাছে এটাই আজ সবচেয়ে বড় আশ্রয়। মানুষের পাশে থাকাই দুর্বার বাংলাদেশের শক্তি ও অঙ্গীকার।”
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available