নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার সজিব খান (২৭) নামে এক বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসায়ী গত চারদিন যাবত নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ঘটনায় সজিবের স্ত্রী মোসা. নুরজাহান রানা সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ সজীবের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।


নিখোঁজ সজিব খান পটুয়াখালি জেলার দুমকি থানার চরগরবদি গ্রামের মো. শহিদ খানের ছেলে। তার বাবা নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেল গেট এলাকায় ফল ব্যবসা করেন। ব্যবসার সুবাদে তিনি শহরের ২ নম্বর বাবুরাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে সজিবের মা ও ছোট এক ভাই থাকেন গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালিতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজিব ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ব্যবসায়ী সোহেল রানার মেয়েকে বিয়ে করেন। এর পর থেকে সজিব তার শ্বশুর বাড়ির কাছাকাছি নিতাইগঞ্জের কাচারি গলি এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। শহরের ২ নম্বর বাবুরাইল এলাকায় লেকের পাড়ে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানের ব্যবসা রয়েছে সজিবের।
সজিবের স্ত্রী মোসা. নুরজাহান রানা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, প্রয়াত দাদার চেহলাম উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালিতে পারিবারিক মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে সজিব খান স্ত্রীকে জানিয়ে গত ২৩ মার্চ দুপুর আনুমানিক পৌনে একটায় শহরের নিতাইগঞ্জের কাচারি গলি এলাকার বাসা থেকে বের হন। এরপর যাত্রাপথে স্ত্রীর সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথাও বলেন সজিব। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে স্ত্রীর সাথে শেষবারের মতো কথা বলার পর থেকে সজিবের সাথে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে সজিবের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন সজিবের পরিবার এবং নিকট আত্মীয় স্বজনদের ফোন করে খোঁজ নেন। তবে কোথাও সজিবের খোঁজ মেলেনি।
সজিবের খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী মোসা. নুরজাহান রানা পরদিন ২৪ মার্চ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন। এ ছাড়া একই দিন সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-১১ ব্যাটেলিয়ান সদর দপ্তরেও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
সজিবের শ্বশুর সোহেল রানা বলেন, ‘আমার মেয়ের সাথে বিয়ের পর থেকে সজিব ও আমার মেয়ে বেশ সুখ শান্তিতেই সংসার জীবনযাপন করছিল। তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো ঝগড়া বিবাদ হয়নি। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া কারো সাথে সজিবের কোনো শত্রুতাও ছিল না। হঠাৎ করে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমি, আমার মেয়ে, আমার পরিবার এবং সজিবের পরিবারের সবাই খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। আমরা দুই পরিবার বিভিন্ন থানা এবং হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত সজিবের কোনো সন্ধান পাইনি।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘থানায় জিডির সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান করে আমরা জানতে পেরেছি নিখোঁজ সজিবের সাথে থাকা মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ছিল মাদারিপুর জেলার মোকসেদপুর এলাকায়। আমরা জিডির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। নিখোঁজ সজিবের সন্ধান বের করতে আমাদের সব ধরনের চেষ্টা চলছে।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available