• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ১৩ই শ্রাবণ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:০৭:১৫ (28-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রকে হত্যার ঘটনায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

২৮ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৪:৪৭

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রকে হত্যার ঘটনায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নবম শ্রেণির ছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই মামলায় অন্য একটি ধারায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

২৮ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশালের বিমানবন্দর উপজেলার সারসী গ্রামের মো. সাগর মুন্সি। তাঁদের মধ্যে সাগর মুন্সি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার।

আদালতের নথি অনুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তিনি ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

করোনা মহামারির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁর জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক কিনে দেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ধল্লা বাজারঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করতেন।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো হ্যালোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহান। দুপুরে বাড়ি না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুক্ষণ পর ফিরবেন বলে জানান। পরে আবার ফোন করা হলে সেটি আর রিসিভ হয়নি।

একপর্যায়ে স্বজনরা খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা যায়নি।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us