সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বেড়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী রেজিস্ট্রি ও সামাজিকভাবে বিবাহের স্বীকৃতির দাবিতে কথিত স্বামী নজরুল ইসলাম দুখুর বাড়িতে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, হলদিয়া ইউনিয়নের বেড়া গ্রামের মৃত ফজল হক ব্যাপারীর মেয়ে সুলতানা বেগমের প্রায় ১৪ বছর আগে নোয়াখালী জেলার মোহাম্মদ উল্ল্যার সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরে জীবিকার তাগিদে মোহাম্মদ উল্ল্যা সৌদি আরবে চলে যান।
সুলতানা বেগমের দাবি, স্বামীর পাঠানো অর্থ স্থানীয় একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে লেনদেন করতে গিয়ে ছইমুদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম দুখুর সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নজরুল তার কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুলতানা বেগম আরও জানান, পরবর্তীতে স্থানীয় এক মৌলভীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং তারা বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন। তবে গত দেড় বছর ধরে নজরুল ইসলাম দুখু তার কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। একই সঙ্গে সামাজিক ও আইনগতভাবে বিয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বৈধ বিয়ে এবং সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে গত ১৫ জুন থেকে নজরুল ইসলাম দুখুর খেয়ারঘাট এলাকার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান সুলতানা বেগম। অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম দুখু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক চলছে। সালিশির মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হবে।’
এদিকে, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available