নিজস্ব প্রতিবেদক: হলফনামায় ৩৯৬ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করেছে বগুড়া-১ (সোনাতলা- সারিয়াকান্দি) নির্বাচনী এলাকার বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে করা অর্থ ঋণ আদালতের ৬৬৪/২৫ নম্বর মামলার বাদি ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া এই বড় অংকের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংকটি গেল বছর অক্টোবর মাসে কাজী রফিকুল ইসলাম ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

কাজী রফিকুল ইসলাম নিজেই গ্রান্টার হিসেবে থেকে র্যানস রিয়েল এস্টেট লিমিটেড কোম্পানির নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৯৬ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার ২৭৪ টাকা ঋণ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক- এমডি কাজী রফিকুল ইসলাম নিজেই। অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির এই ব্যক্তি অন্যের নামে ঋণ নিয়ে দায় এড়ানোর জন্য তিনি হয়েছেন গ্রান্টার। আর সেই টাকা বিদেশে থাকা তার দুই মেয়ের কাছে করেছেন পাচার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ঠেকাতে কৌশলে তিনি এই ঋণের মামলার তথ্য গোপন করেছেন তার হলফনামায়। গত ২৯ ডিসেম্বর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কাজী রফিকের হলফনামার মামলার ফিরিস্তি থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।


বিএনপির এই প্রার্থী এখানেই থেমে থাকেনি। হলফনামায় উল্লেখ করা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের কাছে তিনি ঋণ খেলাপি হয়েছেন ৭৭৬ কোটি টাকা। আর এই বড় অঙ্কের টাকার খেলাপির দায় এড়াতে তথ্য গোপন করে উচ্চ আদালত থেকে নিয়েছেন স্টে অর্ডার। অথচ বড় অঙ্কের এই টাকা খেলাপির দায়ে আদালত পূর্বেই তাকে খেলাপি ঘোষণা করে। আসলে তথ্য গোপন করে স্টে-অর্ডার নিয়ে তিনি সাধু সাজতে চেয়েছেন। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ব্যক্তি ঋণ খেলাপি হলে তাকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে অথবা রিসিডিউল করতে হবে। শুধু মাত্র একটি স্টে অর্ডার নিলেই তিনি ঋণ খেলাপির দায় থেকে মুক্ত নন। এ ধরনের ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে গেলে ঋণ খেলাপির দায়ে তার মনোনয়ন বাতিল হতে হবে। আদালত থেকে নেওয়া স্টে অর্ডার দেখে নির্বাচন কমিশন উক্ত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না করলে পরবর্তীতে ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত তথ্যাদি দেখে আদালত উক্ত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে।
বিএনপি’র সাবেক এই সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার মোট ৯টি ব্যাংক একাউন্টে জমা রেখেছেন ৮১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। আর তিনি হাতে নগদ রেখেছেন ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬ টাকা। অন্যান্য প্রার্থীদের আশঙ্কা, এই আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্বাচনি ব্যয় করতে পারলেও কাজী রফিকুল ইসলাম নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে তার হাতে নগদ রেখেছেন, এই বড় অংকের টাকা। যা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের স্পষ্ট কারণ। সাধারণ ভোটারদের দাবি, ঋণ খেলাপি ব্যাংক খেকে কাজী রফিকুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচিত হয়ে আরও বড় বড় অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, বিতর্কিত করবেন পুরো বিএনপিকে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available