রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে চাঁদা না পেয়ে একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০টি ফলবান গাছ কেটে ধ্বংস করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক।
৩১ জুলাই শুক্রবার ভোরে রাঙামাটি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গাপানির নোয়াদাম ব্রাহ্মণটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে শত শত ফলধরা পেঁপে গাছ কেটে ফেলে রেখে যায়। এতে বাজারজাতের উপযোগী বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকায় সারি সারি পেঁপে গাছ মাটিতে লুটিয়ে আছে। অধিকাংশ গাছেই কাঁচা ও আধাপাকা পেঁপে ছিল। আগামী এক মাসের মধ্যে যেসব গাছের ফল বাজারে তোলার কথা ছিল, সেগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাগান মালিক মো. খলিলুর রহমান জানান, প্রায় এক একর জমি লিজ নিয়ে তিনি ১ হাজার ৮০০টি পেঁপে গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলনশীল প্রায় ৮০০টি গাছ বেছে বেছে কেটে নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাসের পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাগান এক রাতেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যেসব গাছে সবচেয়ে বেশি ফল ধরেছিল, সেগুলোই কেটে দেয়া হয়েছে। এতে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএসের কথিত কালেক্টর শান্তি রঞ্জন চাকমা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে বাগান কেটে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাদের লংগদুর বাড়ির পাশের শিবেরআগা এলাকা থেকে জেএসএসের কথিত কালেক্টর শান্তি রঞ্জন চাকমা ও তার সহযোগী দীপেন চাকমা সবজি চাষিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় গ্রেফতার হয়। এরপর থেকেই শান্তি রঞ্জন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সে আমাকে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দুই দিন আগেও আমার বাগানে এসে শ্রমিকদের সামনে দ্রুত টাকা না দিলে আমাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। চাঁদা না পেয়ে রাতের আঁধারে আমার ফলনশীল পেঁপে গাছগুলো কেটে দিয়েছে। আমি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা চাই।’
বাগানের কেয়ারটেকার মো. জাহিদ বলেন, ‘রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি বাগানের বিপুল সংখ্যক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলোর ফল আগামী এক মাসের মধ্যেই বাজারজাত করার কথা ছিল।’
বাগানে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, ঘটনার কয়েকদিন আগে তিনজন পাহাড়ি যুবক বাগানে এসে মালিকের খোঁজ করেন। তারা চাঁদা না দিলে এই এলাকায় বাগান করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে ফলধরা পেঁপে গাছগুলো কেটে নষ্ট করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পার্বত্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, কাঠ ব্যবসায়ী, ইটভাটা মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী, কৃষক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও চাঁদা নেয়া হচ্ছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাব কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। ফলে অধিকাংশ ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available