আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জিয়াসমিন বেগম নামে এক নারী স্বামীসহ লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত দুই বছর ধরে জিয়াসমিন বেগম গ্রামের দরিদ্র ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের কাছে নিজের ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা ধার নিতেন। তিনি তাদেরকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ তুলে টাকা দিতে উৎসাহিত করতেন এবং আশ্বাস দিতেন যে, ঋণের সব কিস্তি তিনি নিজেই পরিশোধ করবেন।


তার কথায় বিশ্বাস করে অন্তত ৩০ জন নারী এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা নিজস্ব সঞ্চয় থেকে তাকে টাকা দেন। শুরুতে কয়েকটি কিস্তি পরিশোধ করায় তার প্রতি তাদের আস্থা আরও বাড়ে। এভাবে ধাপে ধাপে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ৫ এপ্রিল রোববার গভীর রাতে জিয়াসমিন বেগম স্বামীকে নিয়ে গোপনে এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন ঋণগ্রহীতা নারীরা। এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন, ফলে তারা চরম আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতারণার শিকার আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘জিয়াসমিনের কথায় বিশ্বাস করে আমি এনজিও থেকে ঋণ তুলে কয়েক ধাপে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন সে পালিয়ে গেছে, ঋণ শোধ করবো কীভাবে বুঝতে পারছি না।’
মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে দিয়ে এক লাখ টাকা ঋণ তুলেছে। কিছু কিস্তি দেওয়ার পর এখন পালিয়ে গেছে। এনজিওর লোকজন প্রতিদিন এসে চাপ দিচ্ছে, এতে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।’
আরেক ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম জানান, তিনি নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ঋণের মাধ্যমে আরও এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াসমিন বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available