অনলাইন ডেস্ক: ইরানে ফের মার্কিন হামলার ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমেছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা আবারও বেড়ে গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ মে মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৪৪.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৪৫.৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
তিন মাস ধরে চলমান সংঘাতের অবসানে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোহায় বৈঠকে ছিলেন বলে জানা গেছে। এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান দ্রুত কোনো অগ্রগতির আশা নাকচ করে দেয়।
আলোচনা চলার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী সোমবার দক্ষিণ ইরানে মাইন বসানোর চেষ্টা করা নৌকা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে যায়।
তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায়, ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, উচ্চ সুদের হার এই অনুৎপাদনশীল ধাতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজার এখন চলতি বছরের শেষ দিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন সম্ভাবনা প্রায় ৫৪ শতাংশ ধরে নিয়েছে।
এদিকে ঘানার সরকার গোল্ড ফিল্ডসের টার্কওয়া খনির ইজারা নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নবায়নের আগে কোম্পানির পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৭.৪২ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৯৫৮.১৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৩৮৯.৬৮ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
এর আগে সবশেষ গত ২৫ মে সকালে স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ২ হাজার ১৫৮ টাকা ও ১১৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
আর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: নিউজ ২৪
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available