মো. হানিফ মেহমুদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় নিষিদ্ধ প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. কেরামত আলীসহ দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় অনুসন্ধান কমিটি।

২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০১ আসনের শ্যামপুর, বিনোদপুর, কানসাট, পুকুরিয়া, মোবারকপুর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


এর আগে, নোটিশ পেয়ে রোববার ১ ফেব্রুয়ারি রোববার নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. কেরামত আলী এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াতের উপজেলা নায়েবে আমির গোলাম আজম। এসময় নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের দাঁড়িপাল্লা সরিয়ে নিবেন বলে জানান।
এরপরেও নিষিদ্ধ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি দাঁড়িপাল্লার একটিও প্রতীক সরাননি। উল্টো রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন কত উচ্চতায় তুলে ধরা হয় দাঁড়িপাল্লা। আচারণবিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন করে টাওয়ার বানানো শুরু করেছেন দলটি। একেকটি টাওয়ার ২০ ফিট থেকে ৩০ ফিট পর্যন্ত তৈরি করেছেন। এতে প্লাস্টিক ও বাঁশ ব্যবহার করছেন। এর ফলে পথচারীসহ যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত প্রার্থী কেরামত আলীর পক্ষে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় প্লাস্টিকের দাঁড়ি পাল্লা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্লাস্টিক জীববৈচিত্র ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিষেধ করার পরেও জামায়াতের লোকজন জোর করেই বাড়ির উঠানে, রাস্তার পাশে, অলিগলিতে বাঁশ দিয়ে টাঙিয়ে রেখে যাচ্ছে। এমনকি নিষেধ করলে হুমকি ধামকিও দেয়া হচ্ছে দলটির পক্ষে।
পরিবেশবিদদের ভাষ্যমতে, প্লাস্টিক ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই প্লাস্টিকগুলো কোনোভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে না। এই গুলো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। আবার এইগুলো যখন পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখনও বায়ু দূষণ হয়। প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাদের মতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানলে এবং প্রার্থীরা পরিবেশের ব্যাপারে সচেতন হলে এসব করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অনেক প্রার্থী বা তাদের অতিউৎসাহী কর্মীরা এই কাজগুলো করছেন।
এদিকে বক্তব্য জানতে জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ জানান, প্রচারণা প্রতীকে প্লাস্টিকের ব্যবহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান কমিটির কাছে সশরীরে হাজিরা দিয়েছেন। আইন না মানলে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available