নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁয় মাদক, মাইক্রোবাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্টের একজন পুলিশের এএসআইসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ ডিবি পুলিশ।

নওগাঁ জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সুপারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফল বাস্তবায়নে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ডিবির এই সাফল্যে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।


মাদকের এই কারবারে সরাসরি জড়িত রয়েছেন খোদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট পুলিশের একজন সদস্য।
২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি দুঃসাহসিক অভিযানে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ১০০ গ্রাম হেরোইন, ৮০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের নোহা মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
সফল এই মাদক অভিযানের বিষয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গোপন সূত্রে খবর আসে যে সান্তাহার থেকে একটি মাইক্রোবাসযোগে হেরোইনের একটি বড় চালান নওগাঁ শহরে ঢুকছে। সংবাদের সত্যতা পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম সদর থানাধীন তুলশীগঙ্গা ব্রিজের পশ্চিম পাশে ওঁৎ পেতে থাকে। ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ ১১-৯৭৩৮) ব্রিজের কাছে পৌঁছালে ডিবি পুলিশ সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আটক মাদক কারবারিরা হলেন সেজাউল, এএসআই জাহাংগির আলম, ড্রাইভার ডুমন বর্মন ও ইমরান। এই শীর্ষ মাদক কারবারি চার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নওগাঁ সদর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, মাদক কারবারির সাথে জড়িত ব্যক্তি, সে যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজ বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স অভিযান চলবেই।
জনগণের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া-এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নওগাঁর সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে পুলিশের এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম মাদক ব্যবসায়ী, ডিবি পুলিশের তৎপরতা প্রশংসনীয়, কিন্তু রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন আমরা আতঙ্কিত হই।
একজন পুলিশের কর্মকর্তা যখন সরাসরি মাদক পাচারে জড়িত থাকে, তখন সাধারণ মানুষ কার ওপর বিশ্বাস রাখবে? চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কোর্টে কর্মরত এ এসআই জাহাঙ্গীর আলম পুলিশের ভেতর লুকিয়ে থাকা একজন মাদক কারবারি। এসব অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে মাদক নির্মূল করা অসম্ভব হবে।
আইনি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক পরবর্তী কী পদক্ষেপ -গ্রেফতারকৃত চার আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নওগাঁ সদর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available