• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৯ই কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০২:২৫:৫১ (24-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও: ব্ল্যাকমেইল থেকে বাঁচবেন যেভাবে

এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও: ব্ল্যাকমেইল থেকে বাঁচবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক: সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলেন—আপনার নামে একটি আপত্তিকর ভিডিও চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিচিত মানুষের একের পর এক ফোন আসছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।অথচ ভিডিওর ঘটনার সঙ্গে বাস্তবের কোনো ধরনের সত্যতা নেই! কেবল আপনার একটি ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানিয়ে ফেলা হয়েছে এ ধরনের ভুয়া ভিডিও। আর এখন সেটি সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।এআই প্রযুক্তির এই অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের কারণে আজ যেকোনো সাধারণ মানুষই এমন মারাত্মক পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।তাই প্রশ্ন ওঠে—হুট করে কেউ এমন ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার ফাঁদে পড়লে তাৎক্ষণিক কী করণীয়?বর্তমান যুগে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় যেকোনো মানুষের মুখ বসিয়ে তৈরি করা সম্ভব ভুয়া ছবি ও ডিপফেক ভিডিও। এরপর এসব আপত্তিকর কনটেন্ট স্বজন, বন্ধু কিংবা পরিচিতদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে সাইবার অপরাধীরা।শুধু ভিডিওই নয়, চেনা কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর (ভয়েস ক্লোনিং) হুবহু নকল করে জরুরি বিপদের বাহানা বানিয়ে টাকা হাতানোর ঘটনাও অহরহ ঘটছে।অনেক সময় সুরতের পাশাপাশি চেনা কণ্ঠ শুনে মানুষ যাচাই-বাছাই না করেই সরল বিশ্বাসে টাকা পাঠিয়ে দেন। আবার পরিচিত কারো নামে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এই চক্র।এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে ভুক্তভোগী শুধু আর্থিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং মারাত্মক সামাজিক ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন। অনেকেই লোকলজ্জা বা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে বিষয়টি চেপে যান।কেউ কেউ ভিডিও মুছে ফেলার আশায় প্রতারকের সব দাবিও মেনে নিয়ে টাকা দেন।তবে মনে রাখবেন, টাকা দিলেই যে ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধ হবে—তার কোনো নিশ্চিয়তা নেই; বরং সুযোগ পেয়ে চক্রটি আরও বেশি টাকা দাবি করতে পারে।তাই কখনো এমন ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে ভয় পেয়ে বা আতঙ্কিত হয়ে টাকা দেবেন না। এর বদলে হুমকির স্ক্রিনশট, কথোপকথন, অডিও বার্তা, মোবাইল নম্বর, অ্যাকাউন্টের নাম ও সংশ্লিষ্ট সব লিংকসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি গুটিয়ে সংরক্ষণ করুন। এরপর যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টটি ছড়ানো হয়েছে, সেখানে দ্রুত রিপোর্ট করুন এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি সহায়তা নিন।বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫(১) ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন এবং কোনো ক্ষতিকর বা ভীতিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার কিংবা হুমকির অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনের ২৫(২) ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর ভুক্তভোগী যদি কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হন, তবে অপরাধীর শাস্তি বেড়ে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২ ধারায় সাইবার স্পেসে জালিয়াতি ও প্রতারণার অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।এমন প্রতারণার হাত থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক হতে হবে।অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন। চেনা কারো কণ্ঠে হুট করে টাকা চেয়ে ফোন এলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য যেকোনো উপায়ে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিন।একই সাথে কোনো ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে তা শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকা জরুরি। কারণ, যাচাই ছাড়া কোনো ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দিলে ভুক্তভোগীর ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।পরিশেষে, এআই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও বা ভয়েস ক্লোনিং প্রতারণার শিকার হলে আতঙ্কে চুপ করে থাকা কোনো সমাধান নয়। বরং প্রমাণ গুছিয়ে রাখা, বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়া এবং কালবিলম্ব না করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই আপনাকে ডিজিটাল জগতের এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।