• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বিকাল ০৩:২২:৫৫ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:
এশিয়ান রেডিও
  • ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩১ বিকাল ০৩:২২:৫৫ (24-Jun-2024)
  • - ৩৩° সে:

মতামত

শেখ হাসিনার আমলে কেমন আছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা?

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বিকাল ০৫:৪৫:১০

শেখ হাসিনার আমলে কেমন আছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা?

বিপ্লব কুমার পাল: আবারও কী মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি? গত কয়েক দিনে মন্দিরে হামলা বা প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনার কারণে এই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে আগামী অক্টোবরে। আর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে দেশে অস্থিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে অপশক্তিগুলো বরাবরই ষড়যন্ত্র করে। নিশ্চয় এবারও তারা থেমে নেই। সম্প্রতি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা সেই ইঙ্গিতই দেয়।  অথচ গত বছর দুর্গাপূজার সময় কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার পর, দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ হয়ে যা।

বাংলাদেশে একটি কথা প্রচলিত- ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক। বাংলাদেশের ইতিহাসও তাই বলছে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদে থাকেন, নির্বিঘ্নে ও উৎসবের সাথে ধর্মীয় আচার পালন করেন। তবে বিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ঘটেছে। গণমাধ্যমকর্মী হওয়ায় সেসব ঘটনার আদ্যপান্ত খুঁজেছি ঘটনাস্থলে গিয়ে। কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, পাবনার সাঁথিয়া, রংপুরের পীরগঞ্জ, খুলনায় রূপসায় ঘটনার মূলে গেলে দেখা যায়, জামায়াত-বিএনপির একটি গোষ্ঠী এসব গুজব ছড়ায়। তারা ইসলাম ধর্ম রক্ষার দোহায় দিয়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে। অন্য গ্রাম থেকে ট্রাকে-বাসে করে লোকজন আনা হয়। সেখানে সবচেয়ে বেশি থাকে মাদ্রাসার তরুণ শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুসলমান প্রতিবেশি কখনই হিন্দু বাড়িতে হামলা করেনি। হামলাকারীরা অন্য গ্রামের বাসিন্দা, যাদের উত্তেজিত করে ট্রাকে-বাসে করে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন ঘটনাস্থলে আসে, তখন বিক্ষুব্ধ মানুষের জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকার দলের নেতারাও বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়।

তবে গেল বছর দুর্গাপূজার সময় সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার পর আওয়ামী লীগ সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়। যার কারণে গেল ৯ মাসে প্রতিমা ভাংচুর কিংবা মন্দিরে হামলার ঘটনা প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমে যায়। কিন্তু সামনে তো নির্বাচন, তাই বরাবরের মতো ফের অশুভ শক্তির নজর পড়েছে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। কারণ এই ভোটাররা অনেক আসনের জয়-পরাজয় পাল্টে দিতে পারেন। কারণ চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬.৬৫ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ১৩.৫ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১২.৯৮ শতাংশ ও খুলনা বিভাগে ১১.৫ শতাংশ সনাতম ধর্মালম্বীর বসবাস। আর ঢাকা বিভাগে ৪.৯৭ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ৫.৮৫ শতাংশ। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভয় বা নির্যাতন করে এলাকা ছাড়া করতে পারলে সবচেয়ে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি।

দেশ স্বাধীন হলেও পাকিস্থান ভাবধারায় বিশ্বাসীরা এখনও সক্রিয়। তাদের হাতেই বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর। বাংলাদেশ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমূলে উৎখাতের ষড়যন্ত্রেব র সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়েছে বিএনপি আর তার সবচেয়ে বড় জোট সঙ্গী জামায়েতে ইসলাম। তাই প্রতিবার নির্বাচনে তারা হারলে বা জিতলেও সবচেয়ে বড় আক্রোশ মিটিয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন, ধর্ষণ এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করে।

২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সহিংসতার দগদগে ঘা এখনো দৃশ্যমান। ওই সময় ১৪ হাজার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন ৫ হাজার ৫৭১টি অভিযোগের তথ্য প্রমাণ খুঁজে পান। এর মধ্যে খুনের ঘটনা ৩৫৫টি। ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ গুরুতর অপরাধের ৩ হাজার ২৭০টি ঘটনা চিহ্নিত করা হয়।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরও থেমে নেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। রামু, নাসিরনগর, অভয়নগর বা রামু’র মতো ঘটনাগুলোর নমুনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সাময়িক ভুল বুঝাবুঝি বা উগ্রবাদীদের ইন্ধনে মানুষ উত্তেজিত হয়ে ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। এরপর তা ছড়াতে ছড়াতে ব্যাপক আকার ধারণ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা, লেখালেখি ও সংসদে কথা হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও সচেতন হয়েছে। একারণে কমতে শুরু করেছে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বুঝতে পারছেন নিজ এলাকায় এমন একটা সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হওয়া কতোটা লজ্জাকর। তাই তো এমন কোন ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় রাজনীতবীদরা এলাকায় যাচ্ছেন, মানুষের সাথে কথা বলে আস্বস্ত করছেন। একইসাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও যথেষ্ট সচেতন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য রাজনীতিবীদ এবং প্রসাশনকে দায়বদ্ধ করা, জবাবদিহিতার আওতায় আনাসহ নানামুখী উদ্যোগের কারণেই বর্তমানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কমে যাওয়ায় প্রধান ভূমিকা রাখছে। এখনও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনার মূল কারণ স্থানীয় রাজনীতি, পূর্বশত্রুতা বা জমি বিরোধের জেরে।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন নিপীড়ন বাড়লেও ২০২২ সালে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্যাতন কমেছে। প্রতিমা ভাংচুর, জমি দখল সহ কিছু ক্ষত্রে নির্যাতন কমেছে। কমেছে ধর্ষণ আর হত্যার সংখ্যাও।

গবেষণা বলছে, বর্তমানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পুর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো আছে। গত ১৩ জুলাই ঢাকায় ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি: সমস্যা এবং উত্তরণ’ বিষয়ে এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু ল অব দ্য কমন পিপলের (এলকপ) পক্ষ থেকে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয় ‘সংখ্যালঘুরা তুলনামূলক শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন।’

শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এরমাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিশু ও বয়স্করা মন্দির ভিত্তিক লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তীর্থযাত্রা ও ধর্মীয় পন্ডিতদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দির, উপাসনালয় নির্মাণ ও সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বর্তমান সরকার যা করেছে  
২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর দীর্ঘ ৬০ বছরের পুরানো সমস্যা মিটিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরকে দেড় বিঘা জমি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি মালিকানা দেওয়ার ক্ষেত্রে হেবা আইনের নিয়মমাফিক নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করার সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রি আইন; শত্রু সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত ২১ কোটি টাকা হতে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। হিন্দু তীর্থ যাত্রীদের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ হতে অনুদান সহায়তা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতি বছর ২ লাখ ২ হাজার জনকে প্রাক-প্রাথমিক, বয়স্ক ও ধর্মীয় গ্রন্থ গীতা শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৩ হাজার ৮০৮টি মন্দিরের সংস্কার আর উন্নয়ন করা হয়েছে। এত ব্যয় হয়েছে ২১৮ কোটি টাকা। ৮৮৯টি হিন্দু শ্মশানের অনুকূলে ৩৩ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ৪ হাজার ২০৩ জন অসচ্ছল ও দুস্থ হিন্দু ব্যক্তির অনুকূলে ৬৬ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে।

২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মন্দির ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১৫৮টি মন্দির ও শ্মশান সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উন্নয়নে আরও ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য বর্তমান সরকারের অবদান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মত প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ১০০টি শিক্ষাকেন্দ্রে ৬ হাজার বৌদ্ধ শিশুকে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২টি জেলার ৬২ উপজেলায় ৩০০টি শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ২০ হাজার বৌদ্ধ শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

রাজধানীর পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২১ কাঠা জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। জাতীয় উন্নয়নে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে সম্পৃক্তকরণ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ২৬০ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মীয় নেতাকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

১৯৮৪ সালের বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিতহওয়ার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত ট্রাস্টের স্থায়ী আমানত ছিল ৩ কোটি টাকা। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তা ৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সংস্কার ,মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১ হাজার ৫৩৯টি বৌদ্ধ ধর্মীয় প্যাগোডা বা বেগুরা বা বিহারের অনুকূলে ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ৩০১টি বৌদ্ধ শ্মশানের অনুকূলে ৭৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালের ২৭ জুলাই নেপালের লুম্বিনীতে একটি বৌদ্ধবিহার নির্মাণের লক্ষ্যে নেপালের লুম্বিনীর ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সম্মানে বৌদ্ধবিহার নির্মাণে অর্থায়ন বিশ্বের সকল দেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বের জন্য রোল মডেল।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের অবদান  
খ্রিস্টান ধর্মীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও শেখ হাসিনা সরকার সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংস্কার মেরামত উন্নয়নের জন্য সারা দশে ৩১৫টি গির্জার অনুকূলে ১ কোটি ১৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা ও ৩৪টি সেমেট্রির অনুকূলে ১৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে।

১৯৮৩ সালে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বিষয়ক অধ্যাদেশ জারির ২৬ বছর পর ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বহু প্রত্যাশিত খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রবর্তন করা হয়। ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর বিগত ১০ বছরে ট্রাস্টের এনডাওমেন্ড তহবিলের আয় থেকে ৫৩২টি চার্চ বা উপাসনালয় সংস্কার মেরামত ও উন্নয়নের জন্য ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের এনডাওমেন্ট তহবিলের আয় থেকে গত চার বছরে ১৮টি সানডে স্কুলের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

শুভ বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেশের ১ হাজার ৩৯টি চার্চের অনুকূলে বিতরণ করা হয়েছে। গত সাত বছরে ট্রাস্টের আওতায় পালক-পুরোহিতদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সাতটি কর্মশালা ও ছাত্র-যুবকদের নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক ১৮টি যুব কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে ৬০৬ জন পালক-পুরোহিত এবং ১ হাজার ৬২৭ জন ছাত্র-যুবকসহ মোট ২ হাজার ২২৩ জন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের ব্যক্তিগত অনুদানে খুলনা জেলায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহহিণীদের জন্য গৃহনির্মাণ কর্মসূচির আওতায় দুটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯৭১-এর ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘এই বাংলায় হিন্দু-মুসলিম, বাঙালি-অবাঙালি যারা আছে তাঁরা আমাদের ভাই। তাঁদের রক্ষার ভার আমার আপনার উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়।’বঙ্গবন্ধুর এই অমৃত বাণী বুকে ধারণ করে রাষ্ট্রপরিচালনা করছেন জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি সভায় স্মরণ করিয়ে দেন, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। তিনি বলেছেন, ‘কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান - তা দেখে সেবা করি না আমরা। সব রক্তের রং লাল। মুক্তিযুদ্ধে সবার রক্ত মিশে গেছে এক স্রোতে। তাই এ দেশ সবার। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিয়ে বাঁচবে ‘। তাই তো মনে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপরই আস্থা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ