ডেস্ক রিপোর্ট: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে অনেকেই সমস্যা হিসেবে দেখলেও এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আশীর্বাদ। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখানোর সক্ষমতা রাখে।
১৯ জুন শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, পলিটিক্স করতে হবে অন্যের জন্য, নিজের জন্য নয়। এই শিক্ষার পরেও, ওই জুলাই ৩৬-এর শিক্ষার পরেও যদি বাংলাদেশের জনগণের পলিটিশিয়ানরা শিক্ষা না নেয়, তাহলে আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোনো কাঠামো থেকে বের করে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে বলছিলেন, আমি যখন ইংল্যান্ডে ছিলাম, সকালে উঠে দেখতাম বাচ্চারা কত সুন্দর পোশাক পরে, জুতা-মোজা পরে স্কুলে যাচ্ছে। তখন ভাবতাম, আমার দেশে কবে এটা হবে। এখন ভাবার সময় শেষ, করার সময়। তিনি দেশে এসেছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাই নির্দেশ দিয়েছেন—এটা আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরে চালু করেন টাকার বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি। তিনি মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু করেন, পরে তা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করেন। একই সঙ্গে ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেছিলেন, আবার দায়িত্ব পেলে ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবেন। উনার ভাগ্যে সেটা হয়নি। কিন্তু উনার জ্যেষ্ঠ সন্তান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত উপবৃত্তির ব্যবস্থা করলেন। অর্থাৎ ধারাবাহিকতা রয়েছে—মা যেভাবে দেখেছেন, ছেলে ঠিক সেভাবেই দেখছেন।
মিলন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিল চালু করা হচ্ছে, যাতে তারা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তাদের খেলাধুলা ও পড়াশোনাকে আনন্দময় করতে ‘লার্নিং হ্যাপি ক্লাস’, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও চারিত্রিক মূল্যবোধ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি সাতার, দাবাসহ বিভিন্ন খেলাও প্রাথমিক স্তর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তিনি মাত্র ১৬ দিনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। আমার অফিসে একটি বোর্ড রয়েছে, সেখানে লেখা আছে—জিয়াউর রহমান, এডুকেশন মিনিস্টার, ১৬ দিন মাত্র। আমি এখনো বসে ভাবি, ১৬ দিনে তিনি যে পরিবর্তন এনেছিলেন, বোধ হয় ওই পরিমাণ কাজ আমরা করতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের জন্য কোনো শাস্তির বিধান ছিল না। সরকার সেটি এখন অন্তর্ভুক্ত করেছে। উনার ভিশনারি আইকিউ ছিল। যে বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, রোটারিয়ানরা সেবার জন্য কাজ করেন, কিছু পাওয়ার জন্য নয়। রোটারির চারটি সত্যকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে উদাহরণমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরার ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় যে কবিতাগুলো মুখস্থ করেছি, এখনো সেগুলো মনে আছে। কিন্তু বড় হয়ে প্রতিদিন কত কিছু পড়ছি, সেগুলো অনেক সময় মনে থাকে না। তাই শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক মূল্যবোধ শেখানো আমাদের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। কারণ আমরা অত্যন্ত জনবহুল দেশ। অনেকে জনসংখ্যাকে বোঝা মনে করে, কিন্তু আমি মনে করি এটাই আমাদের আশীর্বাদ।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available