• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২২শে কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ১০:৪৪:১৯ (06-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:

দেশে আরও তিনটি সার কারখানা স্থাপন করবে সরকার

৬ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১০:২৩:৫১

দেশে আরও তিনটি সার কারখানা স্থাপন করবে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে সার উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খবর বাসসের।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সারের সরবরাহ জোরদার এবং শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীনে বর্তমানে সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয়েছে, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন

পুলিশের ৭৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে ৭ লাখ ৫০ হাজার ও ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদিত হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে এসব সারের অধিকাংশ চাহিদাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।

বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভোলায় নতুন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বিসিআইসি। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাটি চালু হলে দেশে ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা হবে ৪ লাখ মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও কারখানার বিভিন্ন সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন কারখানা স্থাপন করা হলে টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টিএসপি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের সার সরবরাহে দেশীয় উৎপাদনের অবদান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।’

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২৪ হাজার মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গুতে একদিনে মৃত্যু ৭, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৬

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এ প্রসঙ্গে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, ‘বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশে প্রস্তাবিত ইউএফ-৮৫ কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এটিভি/এসআইআর

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, চতুর্থ ঢাকা
বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, চতুর্থ ঢাকা
৬ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৯:৪৩:৫২






আজকের রাশিফল (৬ নভেম্বর ২০২৬)
আজকের রাশিফল (৬ নভেম্বর ২০২৬)
৬ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:৩৯:৫৬