• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১০ই আষাঢ় ১৪৩৩ সকাল ০৯:৩৩:০৪ (24-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

২৪ জুন ২০২৬ সকাল ০৮:০২:০৬

বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় সরকার। চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠেয় সামার দাভোস সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ এই বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

২৩ জুন মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে শাংগ্রি-লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত সামার দাভোস ২০২৬ চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। এতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সরকারি প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শীর্ষ ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং করপোরেট নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’—এই বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিরও প্রশংসা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় নির্বাচিত সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেয়েছে বলেই তাকে ওই সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ শিল্পের বিকাশে পাটশিল্পের প্রসার, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানবাহন চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।”

মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

২৪ জুন বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশে যেমন জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক প্রতিনিধিত্ব করছেন, যিনি সমতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে কার্যকরভাবে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, সম্মান ও দৃঢ় অবস্থানও নিশ্চিত করছেন।

মাহদী আমিনের ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সফল অভিজ্ঞতা ও কার্যকর কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

সূত্র: বাসস

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us