আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনুসারীদের স্বর্গে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই মামলায় তার ২৮ সহযোগীকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খবর এপির।
৬ নভেম্বর শুক্রবার কেনিয়ার উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্টের বিচারক ডায়ানা কাবেদজা-মোচাচে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পল ম্যাকেঞ্জি তার অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, অনাহারে থেকে মৃত্যুবরণ করলে তারা যিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। তার প্ররোচনায় অনুসারীরা নিজেদের পাশাপাশি সন্তানদেরও খাবার ও পানি গ্রহণ থেকে বিরত রাখেন। এতে ১৯০ শিশুসহ মোট ১৯১ জনের মৃত্যু হয়।
আদালতে উপস্থাপিত ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে অনাহারে। বাকি আটজনকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ম্যাকেঞ্জিকে দুটি পৃথক অপরাধের জন্য ১০০ বছর করে মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপরাধে প্রত্যেকের সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা বিবেচনায় তার ২৮ সহযোগীকে ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছিল। তবে বিচারক সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুকে যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো। ফলে মৃত্যুদণ্ড তাদের কাছে শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণেই তাকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী। তবে শাকাহোলা বনাঞ্চলে অনুসারীদের মৃত্যুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, গণমৃত্যু ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে পৃথক আইনি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান শেষে ওই বনাঞ্চল থেকে ৪২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কেনিয়ার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই গণমৃত্যুর ঘটনা ধর্মীয় উগ্রপন্থা প্রতিরোধ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available