আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে তিমির ধাক্কায় একটি প্রমোদতরী ডুবে যাওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর চার নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিমির সঙ্গে সংঘর্ষের পর ‘তাই তাম’ নামের ৫২ ফুট দীর্ঘ ইয়টটিতে পানি ঢুকতে শুরু করলে নাবিকরা জরুরি সংকেত পাঠান। পরে লাইফ র্যাফটে আশ্রয় নেওয়া চারজনকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি ঘটে নরফোক দ্বীপের প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তরে। ইয়টটিতে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জেম্মা কুপার ও তাঁর স্বামী জেরেমি কুপার, নিউজিল্যান্ডের টেরি হেথারিংটন এবং ফ্রান্সের মার্টিন জ্যাফ্রে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দে ইয়টটি পাশের দিকে সরে যায়। পরে পানিতে তিমি এবং কাছাকাছি ছয় থেকে আটটি স্পার্ম তিমির একটি দল দেখতে পান তাঁরা।
জেরেমি কুপার জানান, ধাক্কার পর ইয়টটির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। সংঘর্ষের প্রায় ৩০ মিনিট পর তাঁরা জরুরি সংকেত পাঠান। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে হাতে করে পানি সেচে ইয়টটি ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে পানি ঢোকা ঠেকানোরও চেষ্টা করেন তাঁরা।
রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চার নাবিক ইয়টটি ছেড়ে লাইফ র্যাফটে ওঠেন। পরে নিরাপত্তার জন্য ইয়টের সঙ্গে র্যাফটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তাঁরা। কিছুক্ষণ পর ইয়টটি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যায়।
নিউজিল্যান্ডের সামরিক বাহিনী জানায়, উদ্ধার অভিযানে রয়্যাল নিউজিল্যান্ড এয়ার ফোর্সের একটি পি-৮এ পোসেইডন টহল বিমান অংশ নেয়। বিমানটি নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ে সহায়তা করে।
নিউজিল্যান্ডের উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের কর্মকর্তা মাইক ক্লুলোর বলেন, এটি ছিল সুসমন্বিত ও সফল উদ্ধার অভিযান। জরুরি সংকেত দ্রুত পাঠানো এবং সমুদ্রে বিপদের জন্য প্রস্তুত থাকার কারণেই নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available