আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনার দ্বিতীয় দফা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি মহলে আলোচনা চলছে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি 'চূড়ান্ত হামলা' চালিয়ে বিজয় ঘোষণা করতে পারেন। ট্রাম্পঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম-এর প্রতিনিধি এরিয়েল কাহানা বলেছেন, এ ধরনের পরিকল্পনার কথা তিনি শুনেছেন।


একই সময়ে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বিপ্লবী গার্ড। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী সমাধান নিয়ে কোনো স্পষ্ট সমঝোতা হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে অবরোধে চাপ বাড়ছে। তবে বর্তমান ইরানি আলোচকদের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৫টি মার্কিন কার্গো বিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে তেলআবিবে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সরকার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় হামলার বিকল্প বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ ফের শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কায় সশস্ত্র বাহিনীতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অনেক সামরিক কর্মকর্তার ধারণা, আলোচনা কেবল সময়ক্ষেপণের কৌশল।
তবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সরকার এখনো কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে চাইছে। এ অবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ সফর শেষে মস্কো পৌঁছেছেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available