রংপুর ব্যুরো: চটপট করে ইট পাথরের শহরে দাপিয়ে বেড়া ৩৮ বছর বয়সী হাসানের মুখে এখন নিঃশব্দ। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন মানুষের মুখের দিকে। একযুগ আগেও রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেধাবী ছাত্র হিসেবে ছিলেন বেশ পরিচিতি। হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছেন হাসান।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা কুর্শা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ বাজারের পাশেই ভাঙ্গাচুরা জরাজীর্ণ বাড়ির ভিতরে ছোট্ট ঝাপরি ঘরের নিচেই দীর্ঘদিন ধরেছে শিকলবন্দি অবস্থায় থাকায় শরীরে ধরেছে পচন। হাতের নখও বড়, বেড়েছে মুখের দাড়িও। যেন কোনো তরিকার লোক।


বর্তমানে ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে একযুগ ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় নিঃশব্দে কাটছে হাসানের দিন। রাতেও বাতিবিহীন লোহার শিকুল নিয়েই ঘুমাতে হয় হাসানকে।

২০০২ সালে হাসানের বাবা-মা দুজনেই মারা যাওয়ায় ছোট ভাই ভ্যানচালক হাসানুর দারিদ্রতার কারণে ভারসাম্যহীন হাসানের চিকিৎসা করাতে না পাড়ায় শিকলবন্দি অবস্থায় জীবন কাটাতে হয়। তবে হাসানের সৎমা সায়বা বেগম বেঁচে থাকলেও দারিদ্রতার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সরকারি বিধবা ভাতার টাকায় চলে মা ছেলের সংসার।
হাসানের ভাগ্নি ছাবেদা আক্তার বলেন, ভারসাম্যহীন হাসান কলেজের গণ্ডি না পার করতেই তার জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার পরিস্থিতি। দারিদ্রতাই যেন তার বড় অভিশাপ। বাবা মার মৃত্যুর শোকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এক যুগ ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করতে হয় তাকে। হাসানের চিকিৎসা করাতে বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
এলাকাবাসী ও হাসানের সহপাঠীরা বলেন, চলাফেরায় যেমন ছিলেন চটপট লেখাপড়ায়ে বেশ মেধাবী। হাসানের পরিবারের একমাত্র সম্বল খাবারের হোটেলটি চুরি হওয়ায় ২০০২ সালে বাবা-মাকে হারিয়ে এখন তিনি নিজেই মানসিক ভারসাম্যহীন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, আমরা শুনেছি দীর্ঘদিন ধরে সিকলবন্দি অবস্থায় আছেন তিনি, তার ভারসাম্যহীন অবস্থার কারণে বেঁধে রাখা হয়েছে। হাসানের সহযোগিতা ও পরিকল্পনা বিষয়টি আমাদের নজরে আছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available