নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দামের পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগ আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে প্রস্তাবটি পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি কমাতে পিডিবি তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি কমানো।
বিদ্যুতের দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় খরচের চাপ বেড়েছে। নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেছেন, ঘাটতির মূল কারণ অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয়। তাই আগে এসব নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তিনি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেন।
তার মতে, বিদ্যমান সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে বড় অঙ্কের ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে দাম না বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে সরকার এখন বিকল্প সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে।
সব মিলিয়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available