• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৬:০৫:০৫ (29-Nov-2025)
  • - ৩৩° সে:

৩৭১ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিবৃতি

ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচার ভিত্তিক প্রতারণা বন্ধ করতে হবে

২৯ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ০৫:১৪:১৭

সংবাদ ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচার ভিত্তিক প্রতারণা বন্ধ করতে হবে, এই মর্মে দেশের ৩৭১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।

Ad

২৯ নভেম্বর শনিবার মূল্যবোধ আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ বিবৃতি দেন তারা।

Ad
Ad

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ১০০ জন প্রফেসর, ৭৪ জন সহযোগী প্রফেসর, ৯৯ জন সহকারী প্রফেসর ও ৯৮ জন লেকচারার রয়েছেন।

বিবৃতিতে শিক্ষকগণ বলেন, “বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ সবসময়ই ভিন্ন মত, পথ ও সংস্কৃতির প্রতি সহনশীল।  বাউল দর্শন ও ধর্ম এই ভূমির একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। তবে বাউল দর্শন যেমন এ দেশের মূল জাতিসত্তার বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তেমনি তাদের দেহতত্ত্বনির্ভর রতিসাধনাও এদেশের প্রচলিত নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

ড. আনোয়ারুল করিম তাঁর ‘বাংলাদেশের বাউল’ গ্রন্থে বাউল সম্প্রদায়ের যে সকল আচার, দেহতান্ত্রিক রীতি ও তন্ত্র-সাধনার উল্লেখ করেছেন-যেমন রজঃ (মাসিকের রক্ত), বীর্য, স্তনদুগ্ধ পান; গাঁজা সেবন ও দেহতত্ত্বনির্ভর রতি-সাধনা; ‘প্রেমভাজা’ নামে-মল, মূত্র, রজঃ ও বীর্য মিশিয়ে তৈরিকৃত অস্বাস্থ্যকর পদার্থ ভক্ষণ; বিবাহবহির্ভুত যৌনাচার- এগুলো শুধু এ দেশের আপামর জনসাধারণের মূল্যবোধের পরিপন্থী নয় এবং সামাজিকভাবে বিপজ্জনকও বটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বাউলদের নিজস্ব দর্শন চর্চা ও আচার-অনুশীলন ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয় না, যতক্ষণ তা তাদের নিজস্ব পরিভাষা ও পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ থাকে; এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মবিশ্বাস ও আচারকে সংক্রমিত না করে এবং তাদের নিজস্ব দর্শনকে প্রতারণামূলকভাবে প্রচলিত ধর্ম বিশেষত ইসলামের মোড়কে জনসমক্ষে উপস্থাপন না করা হয়।”

“কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাউল আবুল সরকারের আচরণ এই সীমা অতিক্রম করেছে।  আবুল সরকার একটি অনুষ্ঠানে কুরআনের আয়াত বিকৃত ও অশুদ্ধ করে পাঠ করে যেমন কুরআনের অবমাননা করেছেন, তেমনি তর্কের বাহানায় আল্লাহর নামে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে এবং আল্লাহর শানে শিষ্টাচারবহির্ভূত অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছেন-যেমন তিনি বলেছেন, “আল্লাহর কথার গোয়া-মাথা আমি কিছুই পাই না।” একই সঙ্গে তিনি বাউল দর্শনের শিরকী বক্তব্য অসচেতন শ্রোতাদের সামনে ইসলামের ছদ্মাবরণে উপস্থাপন করেছেন।  যেমন, তিনি গানের সুরে বলেছেন, তুমি আমি একই সাথে মিশে ছিলাম এক যাতে, ভিন্ন হইলে প্রমাণ দাও সাক্ষাতে.. প্রেমের ও তাকাজা তুমি সইতে না পারিয়া, নিজের ইচ্ছায় নুযুল হইলা মানব রূপ ধরিয়া।”

তারা আরও বলেন, “আবুল সরকারের এই সকল শিরকপূর্ণ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত অশ্লীল বক্তব্য সমাজে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার উপর এবং তার মুক্তির দাবিতে মাঠে নামা সমর্থকদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা দিয়েছে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, তবে এর পেছনে আবুল সরকারের উস্কানি যে প্রধানত দায়ী- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।”

“যিনি উত্তেজনা ও অস্থিরতার সূচনা করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ- এটাই ন্যায়সংগত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।  যিনি স্বেচ্ছায় সমাজে উস্কানি সৃষ্টি করেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন যার ফলশ্রুতিতে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে- তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা কোনো শিক্ষিত ও বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না।  কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বাক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার নামে আবুল সরকারের অপকর্মকে আড়াল করে তার পক্ষে সাফাই গাইছেন যা সাধারণ জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলতে পারে।”

রাষ্ট্র ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, “আবুল সরকারের ধর্ম-অবমাননাকর, বিভ্রান্তিমূলক এবং সামাজিক অস্থিরতা-উদ্রেককারী বক্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে  দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচারের প্রতারণামূলক প্রচার বন্ধ করা হোক।”

বিবৃতি প্রদানকারীদের মাঝে রয়েছেন- বিবৃতিপ্রদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি), অধ্যাপক ড. মনজুরুল মুহম্মদ করিম (মাইক্রোবায়োলজি); বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফয়সল, বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার, সিটি ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শাহাদাৎ কবীর, ডুয়েটের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আয়েশা আখতার (মেরিন সায়েন্স), সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (দর্শন বিভাগ); শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত (রসায়ন বিভাগ)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ তওফিকুর রহমান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফিন (অর্থনীতি), ড্যাফোডিল ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোখতার আহমাদ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক ও মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আসিফ মাহতাব উতসসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ





সংবাদ ছবি
আজ পঞ্চগড় মুক্ত দিবস
২৯ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ০৫:১২:৩১



সংবাদ ছবি
নলডাঙ্গা হালতিবিলে বিএনপির সড়ক সংস্কার
২৯ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ০৪:৪৫:৩৪




Follow Us