• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ৪ঠা কার্তিক ১৪৩৩ রাত ১২:৫৮:৪৩ (20-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

ঈদ-ভ্রমণ হোক ব্যথামুক্ত ও নিরাপদ

১৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৫১:৩৩

ঈদ-ভ্রমণ হোক ব্যথামুক্ত ও নিরাপদ

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পরিবারের সাথে মিলনের এক অপূর্ব উপলক্ষ। সারা বছর কর্মব্যস্ততার মাঝে থাকা মানুষ ঈদের সময় পরিবার-পরিজনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। কেউ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কেউ কক্সবাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ আপনজনের কাছে ছুটে চলেন। “নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা”—এই অনুভূতিই ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

তবে আনন্দের এই যাত্রা অনেক সময় শারীরিক অসুবিধা বা ব্যথার কারণে মলিন হয়ে যেতে পারে। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে বসে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউ লঞ্চে—আবার কেউ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কিংবা কখনও কখনও ছাদে বসেও ভ্রমণ করেন। এসব কারণে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ঘাড়, কোমর বা হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বা যারা আগে থেকেই ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা কিংবা হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য দীর্ঘ ভ্রমণ বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। তাই কিছু সচেতনতা ও সহজ নিয়ম মেনে চললে ঈদের ভ্রমণ হতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক, নিরাপদ এবং ব্যথামুক্ত।

আরও পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে জাতীয় সংলাপ: পানি নিরাপত্তা, কৃষি ও জলবায়ু সহনশীলতায় গুরুত্বারোপ

প্রথমত, দীর্ঘ সময় একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্ভব হলে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পর কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিন। বাস বা ট্রেনের যাত্রাবিরতিতে নেমে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের পেশী শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। এতে কোমর ও হাঁটুর ওপর চাপ কমে।

দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ সময় ঝাঁকুনি পূর্ণ যাত্রায় কোমর ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের কোমরের সমস্যা রয়েছে তারা সম্ভব হলে বাসের সামনের দিকে বসার চেষ্টা করবেন, কারণ পিছনের দিকে সাধারণত বেশি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এছাড়া ভ্রমণের সময় কোমরের সাপোর্ট হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লাম্বার করসেট ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

তৃতীয়ত, যাদের ঘাড় ব্যথা রয়েছে তারা ভ্রমণের সময় সারভাইক্যাল কলার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ঘাড়ের পেশিকে সাপোর্ট দেয় এবং ঝাঁকুনির সময় ঘাড়ের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকে রক্ষা করে। একইভাবে হাঁটু ব্যথায় ভোগা ব্যক্তিরা প্রয়োজনে নি-ক্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন

শুধু জাঁকজমক নয়, আত্মশুদ্ধির আয়োজন

চতুর্থত, ভ্রমণের সময় ভারী লাগেজ তাড়াহুড়া করে টানাটানি না করাই ভালো। গাড়ি বা ট্রেন থেকে নামার পর কিছুক্ষণ শরীরকে বিশ্রাম দিন, এরপর ধীরে ধীরে লাগেজ বহন করুন। এতে হঠাৎ করে পেশীতে টান লাগার সম্ভাবনা কমে যায়।

পঞ্চমত, দীর্ঘ ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করা শরীরকে সতেজ রাখে। সহজ কিছু স্ট্রেচিং যেমন ঘাড় ধীরে ধীরে ঘোরানো, কোমর সোজা রাখা এবং পা সামান্য নড়াচড়া করা শরীরের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ঈদের আনন্দ যেন অসচেতনতার কারণে ব্যথা বা শারীরিক সমস্যায় পরিণত না হয়। একটু সচেতনতা, সঠিক ভঙ্গি এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট ব্যবহার করলে আপনার ঈদ ভ্রমণ হতে পারে নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত।

আরও পড়ুন

মে দিবস ও নারী শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার

সবার জন্য রইলো ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা। সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন এবং আনন্দময় ঈদ উদযাপন করুন।

লেখক: 

ডা. এম ইয়াছিন আলী
চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
ধানমন্ডি, ঢাকা।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ