লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্মরত ডিপ্লোমা নার্স নিজেই দিচ্ছেন ব্যবস্থাপত্র। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীকে ঔষধের নাম লিখে দিচ্ছেন ডিপ্লোমা নার্স। এছাড়া কারা অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম নামে এক নার্সের বিরুদ্ধে। এদিকে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আনায় এক কারারক্ষীকে বদলি ও শোকজ করার ঘটনা ঘটেছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে অসুস্থ হয়ে ছুটি চান কারারক্ষী খলিলুর রহমান। তিনি ডিপ্লোমা নার্স মো. শরিফুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা ও ছুটির আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নার্স শরিফুল ইসলাম ছুটি না দিয়ে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন এবং প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। পরবর্তীতে খলিলুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি পুনরায় ছুটি প্রার্থনা করেন। এ সময় জেলার ও জেল সুপার ছুটি দেওয়ার কথা বললেও শরিফুল ইসলাম এতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।


পরবর্তীতে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষী খলিলুর রহমানকে গাইবান্ধা জেলায় বদলি করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কারণেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে কারারক্ষীদের একটি অংশ দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ডিপ্লোমা নার্স মো. শরিফুল ইসলাম কারাগারের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপ করছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই বদলি বা শোকজের মুখে পড়তে হচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন কারারক্ষী। এতে কারারক্ষীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপ্লোমা নার্স মো. শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার ও জেলার সাংবাদিকদের কারাগারে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তবে রংপুর বিভাগের ডিআইজি প্রিজন বলেন, ‘সুস্পষ্ট তথ্য ও অভিযোগ থাকলে গণমাধ্যমে প্রচার করুন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গোপন সূত্রে আরও জানা গেছে, কারাগারের কিছু কর্মকর্তা অধীনস্থদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন—যেমন সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়া বা বাজার-সদাই করা। এছাড়া কয়েদিদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কারাগারের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি উঠেছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available