• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৯ই কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০২:২৭:০৭ (24-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
  • উপমহাদেশের খবর :
জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সহায়তা পাচ্ছে নেপাল

জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সহায়তা পাচ্ছে নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি বছরের শুরুতে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার পর জাতিসংঘের একটি বিশেষ তহবিল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রথমবারের মতো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে নেপাল। দেশটিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর এ সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর: দ্য টেলিগ্রাফের।জাতিসংঘের ‘ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা তহবিল’ (ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ) থেকে নেপালকে ২ কোটি ডলার (২০ মিলিয়ন) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।চলতি বছরের ২৬ আগস্টের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।বন্যায় দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে আনুমানিক ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতির তুলনায় জাতিসংঘের বরাদ্দ করা অর্থের পরিমাণ মাত্র ০.৭ শতাংশ।জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়। তবে তহবিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা চাওয়া যায়।জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এক বিবৃতিতে এ সহায়তাকে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার ও নেপালের প্রতি সংহতির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে কপ-২৮ সম্মেলনে চালু হওয়ার পর এই প্রথম তহবিলটি আকস্মিক জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো দেশকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।ইউএনডিপি বলেছে, জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা তহবিল থেকে নেপালকে দেওয়া ২ কোটি ডলার দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীল জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া নেপালের বাইরেও বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাছে এ সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। দুর্যোগের সময় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।গত ৩১ আগস্ট চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ প্রকল্প, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিল থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়ে আবেদন করে নেপাল সরকার। পরে দেশটিকে এ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নেপালের ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।জাতিসংঘের তহবিলে পাঠানো চিঠিতে নেপালের অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, ‘একটি স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা একটি পার্বত্য দেশ নেপাল।বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশটির অবদান খুবই সামান্য। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নেপালকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বহন করতে হচ্ছে।’নেপালের অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের তহবিলকে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যখন নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তখন তহবিলটির মানবিকতা, দ্রুততা, নমনীয়তা ও সংহতির সঙ্গে সহায়তা দেওয়া উচিত।তবে নেপালকে দেওয়া ২ কোটি ডলারের সহায়তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জলবায়ু কর্মী ও দেশটির সাবেক সংসদ সদস্য রাজেন্দ্র বাগজাইন। তার মতে, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় এ অর্থ খুবই সামান্য। তিনি একে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য স্বস্তির পরিবর্তে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন।বাগজাইন বলেন, ‘জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অবিরাম বিতর্ক করতে পারে, কিন্তু দরিদ্র মানুষের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়।’ এদিকে জলবায়ুজনিত বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন পর্যন্ত তহবিলে ১৭৬টি আবেদন করেছে। এসব আবেদনে মোট ২৮০ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিপরীতে তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলো মাত্র ৮০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।এটিভি/এসটিও